করোনা সংক্রমন মোকাবেলায় যেখানে সরকার বাংলাদেশব্যাপী হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে সীমান্তবর্তী এলাকায় সকল হোম কোয়ারেন্টাইন উপেক্ষা করে ভীড় জমাচ্ছে মাদকসেবিরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভোমরা স্থলবন্দরের লক্ষীদাড়ী, ঘোষপাড়া, ফুলতলা, বাদামতলা, আলীপুর, ঘোনা, শাখরা, শ্রীরামপুর, কলারোয়া সীমান্তের গাড়াখালী, কাকডাঙ্গা, কুঠিবাড়ী, কেড়াগাছী, রথখোলা, চারাবাড়ী এই সমস্ত এলাকা হয়ে উঠেছে মাদকের আখড়া।
বিজিবির অভিযানে মাঝে মাঝে ছোট-বড় কিছু চালান ধরা খেলেও অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকে এসমস্ত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবিদের কৌশল। বর্তমানে বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে না যাওয়া। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা। তিন চারজন একত্রিত না হওয়া। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা, বাদামতলা, মাহমুদপুর, আলীপুরসহ কলারোয়া উপজেলার কলারোয়া, ঝাউডাঙ্গা, মাধপকাটি, লাবসা এসমস্ত এলাকা থেকে এক মোটর সাইকেলে তিনজন চারজন করে মাদক সেবন করতে এসে ভিড় জমিয়ে একদিকে যেমন মাদকের রমরমা আখড়া গড়ে তুলছে সাথে সমাজের জন্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে হুমকি এবং সহযোগিতা করছে করোনা ভাইরাস সংক্রমন বাড়াতে ও সরকারের বিধি নিষেধকে দেখাচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলি।
এই সমস্ত মাদকসেবিরা কৌশলে যেমন ভোমরা স্থলবন্দরের ফুলতলা’র মোড়ে এসে কোন এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করছে এবং সেখান থেকে সহজে এবং গোপনে মাদকসেবন করে চলে যাচ্ছে। আবার করোনা ভাইরাস এর অযুহাতে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মাদক দ্রব্য। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত মাত্রায় নেশার প্রভাব বোঝাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাদক দ্রব্যগুলোতেও মেশানো হয় ঘুমের ওষুধ, টিটি, কোকেনের মত মারাত্মক উপকরণ। একদিকে আর্থিক অন্যদিকে জীবন চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের কারণে এক একটি পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত দুই দিন আগে খুলনা থেকে ভোমরা স্থলবন্দরে ফেনসিডিল সেবনের উদ্দেশ্যে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে কিছু উঠতি বয়সী ছেলে আসে। তারা প্রতি পিস ১৫০০ টাকা দরে ভোমরা স্থলবন্দরের ঘোষপাড়া থেকে ১০-১২ পিস ফেনসিডিল ক্রয় করে।
এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেবন করে। কিন্তু ঘুমের ওষুধ, টিটি, কোকেন মেশানো ফেনসিডিল খেয়ে তাৎক্ষণিক এক যুুুবকের বমি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে পড়ে যায়। তাকে তার সহযোগীরা চিকিৎসার দ্রুত খুলনায় নিয়ে যায়।
এই মাদকের বেচাকেনা চলছে খুবই কৌশলে তাই যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং বর্তমানে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে নিয়ম বিধি ঠিক রাখতে সীমান্তে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে অপারেশন পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কেএ/বার্তাবাজার