দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)। সন্তান হারানোর দীর্ঘ ৫ বছর হয়ে গেলেও এখনো খুনিদের বিচার না পেয়ে এক প্রকার মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের মা-বাবা।
২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্য অংশের সংর্ঘষ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি ও দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কোর্টে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে গিয়ে নিহত মিল্টনের মা ও জাকারিয়ার বাবাকে প্রধানমন্ত্রী বিচারের আশ্বাস দিলেও ধরা পড়েনি কোন সন্ত্রাস্ত্রী।
মামলার অগ্রগতি বলতে গত ৫ বছরে একাধিকার মামলা তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়ে এখন মামলাটি সিআইডিতে। এ ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার একটিও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তদন্ত চলার কথা বলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাটিয়েছেন দীর্ঘ ৫ বছর!
দুই মামলায় হাবিপ্রবির সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিন, দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব, কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত কুমার ঘোষ কাঞ্চন, হাবিপ্রবির সাবেক প্রক্টর এটিএম শফিকুল ইসলাম, তৎকালিন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ফজলুল হক, কৃষি বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আল আমিন পলাশ, ছাত্র উপদেষ্টা শাহাদৎ হোসেন খান লিখন ও ভিসির গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম এবং ১৮ জন ছাত্রসহ ৩৭ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছিল।
এরপর ঘটনার পাঁচ বছর হলেও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একাধিকারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পরও কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি কোতোয়ালি থানা- পুলিশ। অবশেষে আদালতের এক আদেশে গত বছরের মার্চে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডিতে) স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর সিআইডির ইন্সপেক্টর রমজান আলী বলেন, ‘মামলাটি এতদিন তদন্ত করে বর্তমানে শেষ পর্যায়ে আছে। হয়ত আর কিছুদিনের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে।’
এর আগে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একমাত্র সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে গিয়েছিলের নিহত জাকারিয়ার বাবা গোলাম মোস্তফা ও নিহত মিল্টনের মা রেবেকা সুলতানা। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী সন্তান হত্যার বিচারের আশ্বাসও দিয়েছিলেন বলে জানান জাকারিয়ার বাবা।
নিহত জাকারিয়ার বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমার একমাত্র সন্তান হত্যার বিচারের জন্য প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমি যেনো আমার একমাত্র সন্তান হত্যার বিচার দেখে মরতে পারি এই আশায় বেঁচে আছি। আমার বিশ্বাস, আমি মরার আগেই আমার সন্তান হত্যার বিচার পাব।’
নিহত মিল্টনের মা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাবা কতদিন আগে মারা গেছেন তার বিচার এখনো তিনি করছেন। কিন্তু আমরা গরিব বলেই আমাদের সন্তান হত্যার বিচার এখনো পাইনি। আমাদের কোন বিচার নেই! আমি বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছি। আসামিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাউকেই আটক করা হয়নি। আর এখান বিচার চাইও না! বিচার চেয়েই আর লাভ কী?
বার্তা বাজার/এম.সি