মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী প্রদান

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণের কারণে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা লকডাউন করা হয়েছে। ফলে যারা এই মেগাসিটিতে এখন বসবাস করছেন এদের ভিতরে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ চলছে।

কিন্তু এই মেগাসিটিতে বাস করা নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি কি করবে? এরা এমনই একটি শ্রেণি যারা লাইনে দাঁড়িয়ে না পারবে ত্রাণ নিতে কিংবা কাউকে মুখ ফুটে বলতেও পারবেনা যে তার ঘরে খাবার নেই। এই শ্রেণির জন্য আকাশ আহমেদ নামের একজন তার ক্ষুদে ‘টিম’ ( হাতে গোনা দুই তিনজন স্বেচ্ছাসেবক) নিয়ে খাদ্য দ্রব্যাদি বাসায় বাসায় গিয়ে পৌঁছে দেবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেন।

এবিষয়টি খোদ আকাশ আহমেদ এর কাছ থেকেই শোনা যাক। তিনি জানালেন তার এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটি..

আকাশ আহমেদ। ছবি:বার্তাবাজার।

‘করোনা লকডাউনের শুরু থেকেই নিম্নবিত্তদের খাবার দিয়ে আসছিলাম। লকডাউনের ১৫ দিন পার হবার পর একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম যারা ক্ষুধার জ্বালা পেটে নিয়ে মান সম্মানের ভয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে এবং ছবি তোলার ভয়ে খাবার নিতে বাইরে আসেন না তাদের বাসায় গিয়ে খাবার দিয়ে আসবো।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার টাইমলাইনে এই মর্মে পোষ্ট দিলাম যে, নিম্নমধ্যবিত্ত/মধ্যবিত্ত যাদের ঘরে খাবার নেই, লজ্জায় হাত পাতেননা, লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার নিবেন না, তারা ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে সাধ্যমত চেষ্টা করবো।

এর পর ইনবক্সে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকে এ রকম মানুষের ম্যাসেজ। আমার সাথে এই কাজে এগিয়ে আসেন মানবিক কাজে নিবেদিত সৈনিক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এবং ওমর ফারুক সম্রাট। আমরা ইনবক্সের ম্যাসেজগুলো লিষ্ট করে ফোন দিয়ে তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে বাজার নিয়ে ছুটে যাই তাদের বাসায়। এই মানবিক কাজে আমাদেরকে ছুটতে হয়েছে সদরঘাট থেকে কালসি, মিরপুর, কামরাঙ্গীচর থেকে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর- এক কথায় পুরো ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।’

ছবি:বার্তাবাজার।

আকাশ আহমেদ আরও জানান, ‘শতাধিক পরিবারের বাসার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যে কতটা কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। এরপর রয়েছে বাসায় বাসায় গিয়ে খাবার দিয়ে আসা। এরমধ্যে রয়েছে লকডাউনে থাকা বিভিন্ন এলাকা, বিভিন্ন রাস্তা, বিভিন্ন বাড়ি। রাস্তা একেবারে ফাঁকা দেখে ভেবেছিলাম দুই-তিন ঘন্টা লাগবে। কিন্তু না, ইনবক্সে নক করা শতাধিক পরিবারকে খুঁজে খুঁজে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এই খাবার প্যাকেট বিতরন করেছি।’
ছবি:বার্তাবাজার।

তিনি বলেন, আমি নিজেই চেষ্টা করেছি যতটুকু পারি করতে। যা করেছি এটা খুব সামান্যই কাজ, তবে কোন সংস্থা বা সংগঠনের মাধ্যমে কিছু করছি না। আশা করবো এই মহামারির সময়ে সামর্থ্যবানরাও যতটুকু পারেন এধরণের মানবিক কাজে এগিয়ে আসবেন।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর