হয়তো এমন বৈশাখ এর আগে কখনো কেউ দেখেনি, শব্দ নেই,রঙ নেই, চন্দ নেই, মানুষের ঝটলা নেই, বাসন্তী রঙ শাড়ি নেই, চিরচেনা গানের সুর নেই তাতে কি তবুও তো আজ বৈশাখ।
বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ যুক্ত হলো নতুন বছর ১৪২৭, তবে এবারের বাংলা নববর্ষের দিনটা হয়তো অনেকের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রকৃতি আমাদের কাছে কি কখনো কিছু চায়, কখনো কি বায়না করেছে কিছু? এবার আমাকে বরণ করার জন্য কোন আয়োজন করা হয়নি আমি আসবনা বৈশাখ হয়ে।
তাতে কি ধান ক্ষেতে ঠিকই ধান পাকা শুরু হবে এবং কৃষক তার সমস্ত ভালবাসা দিয়ে ঘর সাজাবেন সোনার ধানে। এমন বাংলা নববর্ষের কথা হয়তো কখনো কেউ কল্পনাও করেননি। সুনামগঞ্জ জেলায় শহরে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ আসে নতুন ধানের ঘ্রাণ নিয়ে, ঢাক,ঢোল,পিটিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলা নববর্ষকে, এখানকার মানুষের বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করার দাবিদার সবচেয়ে বেশি। দেশের উল্লেখযোগ্য বুরো ধান উৎপাদন হয় এই জেলায়।
প্রতিবছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন করা হয়ে থাকে। সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানমালা। তবে অনেকেই ঘরে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
আজ জেলা শহর সুনামগঞ্জ ছিল একেবারেই ফাঁকা তেমন কাউকে রাস্তা ঘাটে দেখা যায়নি। গতকাল ফের একজনের করোনায় আক্রান্ত হবার খবর শুনে মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তবে আজ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল আহাদ হাওরে নিজ হাতে ধান কেটে ধান কাটার উদ্ভোধন করেন।
শহুরে জীবনের প্রত্যাশা বরাবরই একটু ভিন্ন কৃত্রিমভাবে তাও এবার উপভোগ করা হলনা। আজ হয়তো মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়ে সবাই আজ গৃহে অবস্থান করছি( স্বেচ্ছাবন্দী)। কোভিড-১৯ তুমি আসলে কি চাও আর কত প্রাণ নিবে? আমাদের বাংগালীর প্রাণের উৎসব খেয়ে নিলে! তরুণ-তরুণীর অনুমোদনহীন ভালবাসার ঢং তাও গিলে ফেললে। জানিনা আর কি কি খাবে তুমি তবে এবার আমাদের মুক্তি দাও তোমার অদৃশ্য আক্রমণ থেকে।
বাবার কাঁধে সোনামণির গাল লাল করা পহেলা বৈশাখ লেখা দেখতে দিলেনা তুমি সত্যি খুব খারাপ। পৃথিবী তোমার ভয়ে আজ নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে একটু সদয় হও তুমি। হয়তো অনেকেই এমন প্রত্যাশা করছেন, সুধীজনের দাবি খুব শীঘ্রই এই কালো মেঘ কেটে যাবে আবার প্রানের উৎসব আসিবে ফিরে নতুন কোন ভোরে।
কেএ/বার্তাবাজার