করোনার বিস্তার ঠেকাতে পুরো বিশ্বের ১৪০ টির মতো দেশে চলছে লকডাউন। দেশগুলোকে আর্থিক ক্ষতি ভয়াবহ আকার নেবে বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। লকডাউনের মাঝে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্রগোষ্ঠী, যারা দিন আনে দিন খায় তারা। ভিয়েতনাম সরকার এমন দরিদ্রদের জন্য চালু করেছে চালের এটিএম বুথ মেশিন।
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এ বুথগুলো থেকে দরিদ্ররা বিনামূল্যে চাল নিতে পারবে। গত ৩১ মার্চ থেকে দেশটিতে ১৫ দিনের জন্য শুরু হয়েছে লকডাউন পরিস্থিতি। এ সময়ের মধ্যে দরিদ্ররা যাতে ক্ষুধায় কষ্ট না পায়, তাই ভিয়েতনাম সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। প্রতিবার বুথ থেকে দেড় কেজি করে চাল নিতে পারে দরিদ্ররা। বুথের বাইরে একজন প্রহরী থাকেন যিনি সর্বক্ষণ মনিটর করেন যাতে কেউ দিনে একের অধিকবার চাল নিতে না পারে। দেশটির এক তিন সন্তানের মা বলেন, ‘চালের এই এটিএম বুথগুলো খুব উপকারী। এক ব্যাগ চালে অনায়াসে আমাদের একদিন চলে যায়। এখন আমাদের অন্য খাবার প্রয়োজন।
এক প্রতিবেশী মাঝেমধ্যে আমাদের ফেলে দেওয়া খাবার বা নুডুলস দেন।’ গুয়েন থাই লি নামে ওই নারীর স্বামীর চাকরি চলে গেছে লকডাউনের কারণে। সরকারি প্যাকেজের কারণে দৈনন্দিন চালের সংস্থান হলেও ঘর ভাড়ার টাকা কোথা থেকে আসবে তা জানেন না গুয়েন। কমিউনিস্টশাসিত ভিয়েতনামের জনগণ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে। করোনার বিপর্যয়ের মধ্যে দেশটির সরকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে দরিদ্রদের জন্য।
এ প্যাকেজের অংশ হিসেবেই চালু করা হয়েছে চালের এটিএম বুথ। দেশটির স্থানীয়রা মনে করেন, সমাজের অবস্থাসম্পন্নরা দরিদ্রদের জন্য এরকম চালের বুথ করে এগিয়ে আসতে পারে। ভিয়েতনামে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ২৬২ জন আক্রান্ত হয়েছে, তবে কেউ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি