২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন

আপডেট: মে ১৬, ২০১৮

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুদিনের ভাঙনে প্রায় ১৮টি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কাপড়েরহাট, বহু ঘরবাড়ি ও তাঁত কারখানা। এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিন দেখা যায়, যমুনা নদীতে পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকার নদীতীরবর্তী মানুষগুলো রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে।

মঙ্গল ও বুধবার ব্রাহ্মণগ্রামের রেজাউল, শহিদুল, ইব্রাহীম, জুব্বার ও জাহিদুল ইসলামের বাড়িসহ প্রায় ১৮টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় আম-কাঁঠাল, লিচুসহ অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণগ্রামের আবির আহম্মেদ ও আড়াকান্দি চরের আবদুল লতিফ জানান, হঠাৎ করে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রাহ্মণগ্রামের ৮টি বাড়িঘর নদীতে চলে যায়। এ ছাড়া চোখের পলকেই আড়কান্দিচরের বহু ফসলি জমি যমুনা নদী গ্রাস করে।

তারা আরও বলেন, ভাঙন যদি এক সপ্তাহও স্থায়ী হয় তা হলে এলাকার শত শত মানুষকে সম্বল হারিয়ে পথে বসতে হবে।

এদিকে অব্যাহত নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়কান্দি ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ব্রাহ্মণগ্রাম তারা জামে মসজিদ, দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়েরহাট, ২৬টি তাঁত কারখানাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার ঘরবাড়ি।

এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার ইউপি সদস্য সোহরাব আলী বলেন, গত বছর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নদীভাঙন পরিদর্শনে এসে সভা করে ভাঙনরোধে আশ্বাস দিলেও এর কোনো বাস্তবায়ন না দেখে হতাশ যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা। যমুনায় অসময়ের এ ভাঙন এখনই ঠেকানো না গেলে বর্ষা মৌসুমে বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান, তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ এনায়েতপুরে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।