ভালো নেই অভিভাবকহীন বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশুরা

‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার (বৃদ্ধ বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশু আশ্রয় কেন্দ্র)’ বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর। মিল্টন সমাদ্দার এর প্রতিষ্ঠাতা যিনি পেশায় একজন নার্স। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই ভয়াল সময়ে ভালো নেই এই ভালো নেই আশ্রমের অভিভাবকহীন বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশুরা।

চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী ও তত্ত্বাবধানকারী মিলটন সমাদ্দার এই অসহায়, সুস্থ, অসুস্থ, বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা মানুষগুলোর সেবা দানের নিমিত্তে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একাজে তার স্ত্রী তাকে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছেন।

ছবি: বার্তা বাজার

জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে আজ দীর্ঘ ৬ বছর হতে চললো। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬ বছর যাবত মিল্টন সমাদ্দার অসহায়, অসুস্থ বৃদ্ধ/বৃদ্ধা ব্যক্তিদের সেবা/পরিচর্যা প্রদান করছেন।কে সেবা নেবেন আর কে সেবা গ্রহণ করবেন তিনিই এসব কর্মকান্ডের একমাত্র নিয়ন্ত্রক। যদিও কারো একক উদ্যোগে একটি মানসম্পন্ন বৃদ্ধাশ্রম কেন্দ্র পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব। তবে এপর্যন্ত বিভিন্ন মানবিক মানুষের সহায়তায় তিনি ২২৩ জন অসহায় ও অসুস্থ বৃদ্ধ/বৃদ্ধা ব্যক্তিদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থাসহ সেবা/পরিচর্যা করে আসছেন।

ছবি: বার্তা বাজার

এব্যাপারে, মিল্টন সমাদ্দার জানান, এই আশ্রমে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ইতোমধ্যে ৩১ জন ইন্তেকাল করেছেন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাংবাদিক, প্রবাসী, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এমন অনেকে ফেসবুকে এই আশ্রমের প্রচার ও বিজ্ঞাপন দেখে তাঁদের পিতা, মাতা ও স্বজনদের নিতে এলে আমরা তাঁদের স্বজনদের তাঁদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে আরো ৬৬ জন অসহায়, অসুস্থ বৃদ্ধ/বৃদ্ধা ব্যক্তি ও ৬ জন প্রতিবন্ধী শিশু এই আশ্রমটিতে আছেন।

তিনি আরও জানান, এই আশ্রমে এক সাথে ৬৫ জন অসহায় বৃদ্ধ/বৃদ্ধা ও ১০ জন প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য নিরাপদ বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, বস্ত্র, বিনোদন সহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। সমস্ত খরচ আপনাদের সবার সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয়। এটি একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

ছবি: বার্তা বাজার

আমরা চাই না বৃদ্ধাশ্রমের মতো এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এ বিষয়টি একটি সমাজ ও দেশের জন্য লজ্জার। এই অবহেলিত মানুষগুলো নিরাশ্রয়ী হওয়ার জন্য কে দায়ী? ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই দায়ী। এই বৃদ্ধ মানুষগুলোই তো আমাদের এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন। এই দায় স্বীকার করেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই সকল অসহায় বৃদ্ধ/বৃদ্ধার পরিবার পরিজন আছে কি না আমি জানি না। বিভিন্ন স্থানে নিগৃহীত অসহায়ভাবে নিদারুন কষ্টে পড়ে থাকা মানুষগুলোর মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়ে করিয়েছেন। এখানে আশ্রয় পাওয়া বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত কঠিন রোগে আক্রান্ত। আমি মনে করি এই সকল বৃদ্ধ/বৃদ্ধাকে সেবা প্রদান করা আমার/আপনার সবার দায়িত্ব। তবে একটি বিষয় বলা অত্যন্ত প্রয়োজন এই যে, আমার একার আয়ে এই সকল বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের খরচ চালানো কষ্টসাধ্য। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী এই মহতী কাজে আর্থিকভাবে শরিক হয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে সামান্য সহযোগীতা করলে এই সকল অসহায়, অসুস্থ বৃদ্ধ/বৃদ্ধাগণের বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, বস্ত্র, বিনোদন সহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে আমাদের মাঝে দীর্ঘদিন তাঁরা বেঁচে থাকতে পারবেন। এই সকল মানুষগুলোকে যে বা যারা আজ অনিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা দেখার এবং হিসেব নেয়ার দায়িত্ব আমার নয়। বিষয়টি মহান আল্লাহ্‌র উপর ছেড়ে দিলাম।

ছবি: বার্তা বাজার

তবে বর্তমানে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে এই আশ্রমের ৬৬ জন বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও ৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় চলছে আশ্রমটি। এপ্রসঙ্গে মিলটন সমাদ্দার জানান, তার নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও নার্সিং এজেন্সি করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফেইসবুক শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া স্বেচ্ছাদান ও সহযোগিতা খুবই সামান্য যা এই পরিস্থিতিতে তেমন কোনো সাহায্য আসতেছে না। এখানে বর্তমানে মাসিক সকল খরচ মিলিয়ে এগারো লক্ষ টাকা।

তবে চলতি মাসে করোনা পরিস্থিতিতি মোকাবেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা করতে এই বৃদ্ধাশ্রমের ৬৬ জন বয়স্ক ও ৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুদের ০৬ সুরক্ষিত রাখতে খরচ আরও বেড়েছে। এখানে চিকিৎসা বাবদ ওষুধ খরচই লাগে আনুমানিক চার লক্ষ টাকা। এই অবস্থায় দেশের হৃদয়বান অর্থশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় চান চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী ও তত্ত্বাবধানকারী মিলটন সমাদ্দার।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর