ভেদরগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কার্তিকপুর গ্রামে সরকারি খালের উপর আরসিসি পিলার দিয়ে এই দোকান ঘরটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কাজ প্রায় অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান ঘরটি নির্মিত হলে বর্ষাকালে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যহত হবে। ইরি মৌসুমে সবুজ প্রকল্পের পানি সেচ ব্যবস্থায়ও অসুবিধা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্তিকপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, খালটি ভরাট করে আরসিসি পিলার করার সময় প্রথমে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এবং চেয়ারম্যান মেম্বার এসে রহিম বেপারীকে বাধা দেন। কয়েক দিন পর তাঁরা আবার মাটি ভরাট করে দোকানের কাজ শুরু করেন। তখন নেতারা আর কিছু বলেননি। কার্তিকপুর মৌজার ওই খালটি প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৭৭ দাগের ৫ নং খতিয়ানের ৪৫ শতাংস জমি রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কার্তিকপুর বাজারের উত্তর পাশে তিন রাস্তার মোড়ে সরকারি খালের উপর আরসিসি পিলার দিয়ে আঃ রহমান বেপারি ছেলে রহিম বেপারী নামে একজন দোকান ঘরটি নির্মাণ করছেন। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের আতাত করার কারনে এলাকাবাসী তাকে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, খাল দখল করে এটি নির্মাণ করার ফলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে ব্যাঘাত ঘটবে।
খাল দখর করে দোকান নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ কর্মীদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন দখলদারের পক্ষে এক জনপ্রতিনিধি।

রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোশারফ হোসেন (শিপল) সরদার বলেন, ‘সরকারি খালে অবৈধভাবে আরসিসি পিলার দিয়ে দোকান ঘরটি নির্মাণ করার সময় আমি বাধা দিয়েছি। কিন্তু রহিম বেপারী বাধা উপেক্ষা করেই দোকান নির্মাণ করছেন।
রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব সিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,রামভ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি খালের জায়গায় অবৈধভাবে আরসিসি পিলার দিয়ে দোকান ঘরটি নির্মাণ করার সময় আমি থানা থেকে পুলিশ এনে বাধা দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে শুনতে পেলাম আমার বড় ভাই তার বাবা কে অনেক আগে দোকান ঘর উঠানোর জন্য জায়গা দিয়েছে তাই বিবেচনা করে আর কিছু বলিনি।
অভিযুক্ত রহিম বেপারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সরকারি খালের উপর দোকান নির্মাণ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘খালের পাশের জমি আমাদের। তাই আমি খালের উপর আরসিসি পিলার দিয়ে দোকান নির্মাণ করছি। এতে পানি নিষ্কাশনের কোন অসুবিধা হবেনা।’
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্র্য বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অফিস খুললেই আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। সরকারি খাল কাউকে দখল করতে দেয়া হবেনা।

অবৈধ দখলের বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর-আল-নাসীফ বলেন, উপজেলা সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্র্যের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি জায়গা থেকে দোকানঘর উচ্ছেদ ও বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর