রামগতির চরআলগীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৬শ ৬২ জনের নাম কর্তন

লক্ষ্মীপুরের রামগতি চরআলগী ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা দরে চালের তালিকা থেকে সুবিধাভোগীদের প্রায় ১৭’শ নাম বাদ দেয়া হয়েছে। জনপ্রতি এক হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তালিকায় সরকারী চাকুরীজীবী সহ স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তভূক্ত করে স্থানীয় চেয়ারমান জাকির হোসেন লিটন। এতে ক্ষুব্দ বিধবা-প্রতিবন্ধী ও অস্বচ্ছল-হতদরিদ্ররা ব্যক্তিরা। করোনা সংকট মুহুর্তে চাল না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

জেলার রামগতি উপজেলার চরআলগী ইউনিয়ন মেঘনার তীরবর্তী ইউনিয়ন। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনের ফলে বিলিন হয়েগেছে তিনটি ওয়ার্ড। বর্তমানে এ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ এ তিনটি ওয়ার্ড নদী ভাঙ্গার শিকার হয়ে শতশত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বেকার হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ।

পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনসাধারনকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য বিতরনের জন্য একটি নীতিমালা প্রনয়ন করে সরকার। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ওই নীতিমালা সংশোধন করে “ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী নীতিমালা-২০১৭ ” প্রনয়ন করে। তারই ধারাবাহিকতায় ওই ইউনিয়নের ২২ হাজার ৭ শত ভোটারের মধ্যে যাচাই-বাচাই করে অসহায় দিনমজুর ২ হাজার ৩’শ ২০ জনকে কার্ড প্রদান করে পরিষদ। এদের মধ্যে সুবিধাভোগী হতদরিদ্র-দিনমজুর-বিধবাসহ অস্বচ্ছল ১৬’শ ৬২ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১০ টাকা দরে চাল পেয়ে আসছে। এসব কার্ডধারীরা বছরে ৩০ কেজি করে ৫ বার সুবিধা পাবে। তবে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে চলতি বছরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল ৭ বার পাবে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যে ঘরে বসবাস করে, বিধবা,দিনমজুর কিংবা প্রতিবন্ধী রিকশা চালক। এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকা থেকে কর্তন করে দেয় চেয়ারম্যান। দেখা যায়, বিধবা কুলছুম কার্ড নং-(১২৫৮) তার নাম কেটে টেক্সটাইল মেইলে চাকুরীজীবী হান্নান উদ্দিনের নাম তালিকা ভুক্ত করা হয়।। একই ভাবে ইটভাটা শ্রমিক জমির উদ্দিনের নাম বাদ দিয়ে পোল্ট্রি খামার মালিক মাইন উদ্দিন, রিকশা চালক মিলাদের নাম বাদ দিয়ে বিদেশ ফেরত মশলা ফ্যাক্টরি মালিকের স্ত্রী বিবি মরিয়ম, দিনমজুর আব্দুল হালিমর নাম বাদ দিয়ে ঢাকার ব্যবসায়ী শরিফ হোসেন, হতদরিদ্র বিবি রহিমার নাম বাদ দিয়ে রামগতি উপজেলা পরিষদের সরকারী চাকুরীজীবী হাফিজের নাম তালিকা ভুক্ত করা হয়। এছাড়া নোয়াখালী সদরের বাসিন্দা, চরজব্বার এলাকার বাসিন্দা, রামগতি বয়াচরের বাসিন্দাদের নামও নতুন তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে চেয়ারম্যান। তবে এসব ব্যক্তিরা কখনো চাল নেয়ার জন্য আসবেনা বলে জানান স্থানীয়রা।

অথচ চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন ওই নামের তালিকা কর্তন করে জনপ্রতি এক হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন তালিকা তৈরি করে এবং উপজেলায় জমা দেয়। স্থানীয় মেম্বারদের সহযোগিতায় পুরাতনদের অনেকের নিকট টাকা দাবী করেন তিনি। না পেয়ে তাদের নাম কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। যদিও নতুন তালিকা বাদ দিয়ে পুরাতন তালিকা বহাল রাখাসহ অনিয়মের তদন্তের দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলী মনু।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান প্রতি কার্ডে এক হাজার টাকা দাবী করেছে। যারা দিতে পেরেছে কিংবা তার পছন্দ মত স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তভূক্ত করেন তিনি। এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে মারধরসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয় চেয়ারমান।

অভিযোগ রয়েছে অস্বচ্ছল হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে সরকারী চাকুরীজীবী, ফ্যাক্টরি মালিক, পোল্ট্রি খামারের মালিক ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে নাম তালিকাভূক্ত করে। (সুবিধা বঞ্চিতরা হলেন- শারিরীক প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিক্সাচালক, বিধবা, হতদরিদ্রসহ অস্বচ্ছল নারী-পুরষ।
১৬’শ ৬২ জনের নাম কেটে নতুন তালিকায় অন্তভূক্তের মাধ্যমে ১৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধ। এসব ঘটনায় বিক্ষুব্দ হয়ে পড়ে সুবিধা বঞ্চিতরা। নতুন তালিকা বাদ দিয়ে পূর্বের তালিকা বহাল রাখতে বিক্ষোভ করে তারা।

চরআলগী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলী মনু জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জাকির হোসেন লিটন চেয়ারম্যান অনিয়ম করে আসছেন। সুবিধাভোগী অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামবাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের আন্তর্ভূক্ত করেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ কর ১০ থেকে বেড়ে ১শ টাকা করছেন, ২০১৭ নির্বাচিত চেয়ারম্যান বকেয়া দেখিয়ে ২০১৩ সাল থেকে কর আদায় করেছেন যার কোন হিসাব-নিকাশ নাই। তার ভয়ে কেউ কথা বলছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়মানুযায়ী তালিকা করেছে বলে দাবী করেন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন।
উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোমিন এমন ঘটনার অভিযোগ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান। তদন্ত সাপেক্ষে নামের তালিকা পূনরায় সংশোধনের আশ্বাষ দেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ জানান, সাম্প্রতিক এঘটনায় বিক্ষোভ করে ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে সিদান্ত হয়েছে পুরাতন কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে চেয়ারম্যান কি করেছে তার জানা নেই। তবে সরকারী কোন নীতি মালা নেই যে এক সাথে প্রায় ১৭শ নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকা করার।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর