করোনা: গুচ্ছ গ্রামের কর্মহীন মানুষগুলো করুণার প্রহর গুনছে

ছিন্নমুল মানুষের পরিবার পূর্নবাসন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রায়ণ প্রকল্প সরকারের দারিদ্র বিমোচনে অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হলেও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় একটি গুচ্ছগ্রাম ও একটি আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার করোনার প্রভাবে খাদ্য সংকটে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

সহায় সম্বলহীন এই হতদরিদ্র পরিবারগুলো করোনার প্রভাবে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ায় খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হতদরিদ্র পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকারের প্রশাসনের তরফ থেকে এই গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রায়ণ প্রকল্পে বসবাস করা মানুষগুলোর করোনা আপদকালিন সময়ে খোঁজ-খবর নেয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসনতো দূরের কথা স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য এবং ইউপি চেয়ারম্যানের তরফ থেকেও এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেয়নি।

ছবি: বার্তা বাজার

জানা যায়, সরকারী উদ্যোগে ২০০৪ সালে ১২০টি অসহায় ছিন্নমূল পরিবারের স্থায়ী আবাসনের লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে তোলা হয় গুচ্ছগ্রাম এবং গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে এর পাশেই ১৫০টি পরিবারের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হয় আশ্রায়ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পনের দিনের অধিক সময় ধরে দেশে অঘোষিত লকডাউন হলেও গুচ্ছগ্রামের ৬৫ পরিবার ও একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০টি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ১০০টি পরিবারের হতদরিদ্র মানুষেররা এখনও কোন খাদ্য সামগ্রী বা সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাসিন্দারা কেউ ভ্যান চালক ও কেউ দিনমজুর আবার কেউ ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করে জীবন যাপন করে। একাধিক পরিবারের কর্তারা বলেন, শুনেছি সব জায়গায় সরকার আমাগোর মত হতদরিদ্রদের চাল ডাল দিতেছে। কিন্তু আমাদের এই গুচ্ছগ্রামে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্তু কিছুই পায়নি।

গণমাধ্যমের কর্মীদের দেখে সরকারি লোক মনে করে চাল-ডালের আশায় আশ্রয়ন প্রকল্পের দেড়-দুইশ হত দরিদ্ররা এক জায়গায় জড়ো হয়।

এ সময় চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কহিনুর বেগম (৬১) বলেন, শুনেছি এখন করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য কাজ করতে গেলেও কেউ আমাদের বাড়ির কর্তাদের কাজে নিচ্ছে না। সরকারি সাহায্যের ‘আমরা এখনও এক মুঠ চাল-ডাল পাইলাম না’।

চাপুলিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি আকুব্বর হোসেন বলেন, এখানে ১০০টি পরিবারের প্রায় আড়াই শতাধিক সদস্য রয়েছে। এ পর্যন্তু কোন সরকারি অনুদান বা সহায়তা আসেনি। পুরুষদেরকে কেউ কাজ করাতেও নেয় না। কিছু পরিবারের মহিলারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে কিছু পেলে তা দিয়ে কোন রকম চলছে।

আশ্রয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দা ফেরিওয়ালা পান্নু শেখ বলেন, এ এলাকায় আমরা যারা বসবাস করি সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছি সবাই। এ পর্যন্তু কেউ এক মুঠ চাল-ডালও দিলো না আমাদের।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রিপন ফকির জানান, তার ওয়ার্ডের ৫টি গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক দিনমজুর হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে। কিন্তু তিনি করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন মাত্র ২০টি। গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্পের বসবাসরত মানুষের জন্য আলাদা কোন ত্রাণ সহায়তা আমি পায়নি।

এ ব্যাপারে টগরবন্ধ ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপন বলেন, গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন কেন্দ্রের সকল পরিবারকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে ইতোমধ্যে তালিকা করে উপজেলায় জমা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই হতদরিদ্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়া হবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, ‘এ উপজেলার প্রতিটি হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তালিকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় সকল হতদরিদ্রের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রকৃত দিনমজুরদের খাদ্য সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন কেন্দ্রের পরিবারগুলো অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে।’

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর