জাপানের বিখ্যাত চেরী ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কথা সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন লিখেছিলেন ‘চেরি ফোঁটার দিনে জাপানে’ নামের ভ্রমণ কাহিনি। পৃথিবীর বহু পর্যটক জাপানী বসন্তে সেখানে ভ্রমণ করতে যায় শুধু চেরী ফুল দেখতে। বরাবরের মত এইবারও জাপানে বসন্ত এসেছে, চেরী ফুলও ফোঁটেছে, কিন্তু আনন্দ করার মতো কেউ নেই। সবাই করোনার দাপটে তটস্থ।
সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে এই পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬১৮ জন। ১৪৩ জন মারাও গেছে। সব দেশের মত জাপান সরকারও করোনা নিয়ে এক ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় আছ। যদিও সেদেশের মানুষ কিছুটা স্বাস্থ্য সচেতন বলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমে যাছিল। তবুও মানুষের মুখে সেই বসন্তের আনন্দের যে আভাটা ছিল সেটা একদম নেই।
বিশ্ববাসী জানে ২০২০ অলিম্পিক জাপানে হওয়ার কথা। সারা পৃথিবী জুড়ে করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পরেও জাপান প্রানপণ চেষ্টা করেছিল অলিম্পিককে বাঁচানোর। কারণ প্রায় মন্দায় চলতে থাকা জাপানি অর্থনীতিতে নতুন করে আশার আলো জোগাতে পারত অলিম্পিক। গত কয়েক বছর ধরে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে অলিম্পিককে কেন্দ্র করে। অলিম্পিক পিছিয়ে গিয়েছে। আশ্চর্জজনক ভাবে অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হওয়ার ঠিক পরের দিন থেকেই টোকিও তে সংক্রমণের হার হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। কাকতালীয় ! কে জানে !
জাপানে এখন ‘চেরি ব্লসম’-এর মরসুম। প্রতিবছর এইসময় সবথেকে বেশি বিদেশি পর্যটক আসেন এদেশে। সুন্দর জাপান সুন্দরতম হয়ে ওঠে। অনন্য সুন্দর প্রকৃতির মাঝে দেশ জুড়ে হয় বসন্তের উদযাপন। এবার সব অন্যরকম। প্রকৃতির নিয়মে ফুল ফুটেছে। প্রতিবছরের মতোই জাপান হয়ে উঠেছে সুন্দর। কিন্তু উৎসবে মেতে ওঠার মতো মানুষ নেই। এ বসন্ত সত্যিই একেবারে অন্যরকম।
বার্তাবাজার/এসজে