প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট মৃত্যুর ৪৪ শতাংশই নিউইয়র্কের বাসিন্দা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা জনস হপকিংস ইউনিভার্সিটি এ তথ্য জানিয়েছে।
জরিপ বলছে, সোমবার রাত পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ২৮৮। যা ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক।
মৃতের সংখ্যায়ও নিউইয়র্কের অবস্থান শীর্ষে। নিউইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৫৫ জন করোনা রোগী। সোমবার রাত পর্যন্ত করোনায় রাজ্যটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজার ৫৬ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২২ হাজার ৯২৬ জন।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে জন্ম নেয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
তবে নিউইয়র্ক দেশটিতে করোনার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
এমন ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েও একটু আশার আলো ছড়িয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু মার্ক কুমো।
তিনি বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে মৃত্যুর হার কমেছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। নিখুঁত ঘাতক এই ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিউইয়র্কে আরও প্রায় ২ হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্কে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসীরাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রোববার ভার্জিনিয়ার উডব্রিজ শহরে, জ্যামাইকার ব্রায়াউডে, এস্টোরিয়া বুলেভার্ডে, ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে, ব্রুকলিনে একজন করে এবং আপস্টেট নিউইয়র্কের বাফেলো সিটিতে ও কুইন্সে এস্টোরিয়ার মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে দুই জন করে মারা গেছেন।
এ নিয়ে করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ রাজ্যে ১৩১ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস