প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশের শরীয়ত সম্মত পন্থায় গোসল, জানাযা ও দাফন নিয়ে সংকটের মুখে ফরিদপুরের একদল উদ্যোমি তরুণ আলেম এগিয়ে এসেছেন। করোনায় মৃতদের দেহ থেকে ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে লাশ দাফনের ক্ষেত্রে সংকটের মুখে তরুণ এই আলেমদের উদ্যোগ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা জাগিয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই তরুণরা ভাইরাসরোধী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষার পোষাক (পিপিই)সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন। ফরিদপুরের প্রতিটি থানায় তাঁদের এ কাজ চলবে বলে জানা যায়।
আজ সোমবার ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান এই দলের অনুমোদন দিয়েছেন। এ দলের আহবায়ক হিসেবে আছেন মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান এবং সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা জামিল সিদ্দিকী। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ মাওলানা আবু নাসির, হাফেজ মাওলানা খবির হোসাইন, মাওলানা শেহাবউদ্দিন, মাওলানা আবুল আহাদ সিদ্দিকী, মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
করোনা মৃতদের দাফন কাজে সহযোগীতাদানে আগ্রহী দলের আহবায়ক মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত কোন রোগী মারা গেলে তাঁদের পরিপূর্ণ মানবিক মর্যাদা বজায় রেখে শরীয়ত সম্মত গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের প্রয়োজন হলে (০১৭৬২-৮২৯০৪৩) এই মোবাইল নম্বরে ফোন করলে আমাদের টিম সেখানে পৌঁছে যেতে দ্রুত উদ্যোগী হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরো বলেন, আমরা মৃত লাশের থেকে যাতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে- সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনার আলোকে সকল শর্তপূরণ করে মৃতের গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন কার্য সম্পন্ন করতে সহায়তা করবো। কারো যদি কাফনের কাপড় প্রয়োজন হয়, এই টিমের পক্ষ থেকে সে চাহিদাও পুরণ করা হবে বলে মুফতি মুস্তাফিজ জানান।
মুস্তাফিজুর বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার ঘোষণা থেকে আমরা জেনেছি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিন থেকে চার ঘন্টা পর মৃতের দেহে করোনার জীবাণুর সক্রিয়তা আর থাকে না। এজন্য আমরা কেউ কল করলে তিন-চার ঘন্টা পর তাঁর জানাযা-দাফনে উদ্যোগী হবো।
এ বিষয়ে মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, বিভিন্ন দেশে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জানাযা-দাফন নিয়ে সঙ্কটের কথা পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি । এজন্য আমরা চাচ্ছি আমাদের দেশে যেন সে রকম মানবিক অমর্যাদা বা মৃতের পরিবারের জন্য অসহনীয় দুঃখ ও অমর্যাকর কোন ঘটনা না ঘটে। ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক যেন একজন মুসলমান মৃতের জানাযা-দাফন হয় সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, এমনিতেই করোনা আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হওয়া মানে মৃত ব্যক্তির পরিবারের উপর ভয়াবহ এক দুর্যোগ নেমে আসে, যাতে তারা এমনিতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে মৃতের শরীয়ত সম্মত পন্থায় গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন কার্য যথাযথ ও মানবিক মর্যাদাজনক উপায়ে সমাধান না হলে সেটা মৃতের পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিশাল এক মানসিক আঘাত, যেটা আজীবন তাদেরকে বয়ে বেড়াতে হবে ও ক্ষত-বিক্ষত করবে।
আমাদের এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্তদের দু:খ লাঘবে কিছুটা সহায়তা হলে আমরা সার্থক হবো। তাছাড়া প্রতিটা মুসলিম মৃত ব্যক্তির শরীয়ত সম্মত পন্থায় দাফন পাওয়ার অধিকার ও মানবিক মর্যাদাটুকু যাতে সুনিশ্চিত হয়, আমরা সেই দিকটাও রক্ষায় সহযোগিতা করতে চাচ্ছি।
ওই টিমের সদস্য সচিব মাওলানা জামিল সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ার পর ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক তরুণ আলেম আমাকে ফোন করে এ কাজে শরীক থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তারা থানাভিত্তিক এরকম টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা এই মানবিক উদ্যোগকে কীভাবে সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিচালনা করা যায়, এই নিয়ে নিখুঁত প্রস্তুতির উদ্যোগ নিচ্ছি।
কেএ/বার্তাবাজার