ঢাকার কেরাণীগঞ্জে নতুন করে একজন মৃতসহ আরো ৭ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত ব্যাক্তি কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া বাকিরা শুভাঢ্যা ও কোন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আজ ১৩ এপ্রিল (রবিবার) কেরাণীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসেন বার্তা বাজারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডা. মীর মোবারক হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আমারা প্রায় ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। তাদের মধ্য থেকে ২ জনের করোনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে এবং বাকি রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায় নি। এছাড়া অন্যান্য সূত্রে কেরাণীগঞ্জের আরও ৫ পাঁচজন করোনা ভাইসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মৃতব্যাক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় মোট ৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এসময় তিনি আরও জানান, সারাদেশের যে কোন উপজেলার তুলনায় কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। তাই উপজেলার দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে কেরাণীগঞ্জ উপজেলা।
মোবারক হোসেন জানান, কেরাণীগঞ্জের জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর, কালিন্দী ও শাক্তা ঘনবসতিপূর্ণ ইউনিয়ন হওয়ায় সেখানে করোনায় সংক্রমিত লোকের সংখ্যাও বেশী। তিনি আরও জানান, কেরাণীগঞ্জের মানুষ সামাজিক দুরুত্ব মানছেন না।
এছাড়া কারো মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে তারা বিষয়টিকে গোপন রাখেন বলেই প্রতিদিন কেরাণীগঞ্জের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই কেরণীগঞ্জবাসীকে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতন হতে বলেন এবং সবাইকে সামাজিক দূরত্বমেনে বাসায় থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া কারো মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা হটলাইনে যোগাযোগের অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে মৃতের স্বজনরা জানান, তিনি গত এক সাপ্তাহ যাবত শাসকষ্ঠ ও জ্বরে ভুগছিলেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে, গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছু সময় পরই তিনি মারা যান।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার দেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে তার শরীরে করোনা উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।মিত্যুকালে তার বয়স ছিলো ৬৫ বছর এবং তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
এ নিয়ে কেরাণীগঞ্জে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩ জনে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন প্রায় সাতটি এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করে রেখেছে। একইসঙ্গে বুড়িগঙ্গা ২য় সেতু সম্পূর্ন লকডাউন ঘোষণা করে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
কেএ/বার্তাবাজার