ধামরাইয়ে করোনা প্রতিরোধে নীরবে কাজ করে চলেছেন এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

মোঃ জাকারিয়া (দিপু) – শান্ত মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এই মানবিক ছাত্রনেতা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ধামরাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে নীরবে-নিভৃতে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।

একজন মফস্বল সাংবাদিক ও একজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রিয় এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দু’একটি বিচ্ছিন্ন নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে ট্রল এবং নানা সমালোচনায় মনকে ব্যথিত এবং বিক্ষিপ্ত করে তোলে। তাই স্বভাবতই এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যেকোনো ইতিবাচক কর্মকান্ড দৃষ্টে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তা প্রকাশ করাটাও নিজের দায়িত্বশীলতার ভিতরে পড়ে বলে মনে করি।

এরই ধারাবাহিকতায় নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের এই সময়ে ধামরাই উপজেলায় বসবাসরত এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নানা কর্মকান্ড আমার নজরে আসে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম ইউনিট হিসেবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বপ্রথম গনপ্রচারণার অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসংক্রান্ত লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড শুরু করেছিলো। আর এই ইউনিটের সাথে ছায়া হিসেবে সম্পৃক্ত থেকে উৎসাহ এবং সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাকারিয়া (দিপু)।

ছবি:বার্তাবাজার।

কখনো তাকে দেখা গেছে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে করোনা সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিলি করতে। আবার নিজের অর্থায়নে ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ কিনে সাধারণ মানুষের মাঝে বিলি করে তার প্রয়োগ বুঝিয়ে দিয়ে এবিষয়ে অভ্যস্ত হবার অনুরোধ করতে। পরক্ষণেই আবার বিভিন্ন অলিতে-গলিতে গিয়ে মানুষকে ‘মাস্ক’ বিতরণ ও এটা পরিধান করে নিয়মিত সেটা ব্যবহারের অনুরোধ করতে দেখা গেছে তাকে। নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে ৪ শত ‘মাস্ক’ বিতরণ করেছেন তিনি।
ছবি:বার্তাবাজার।

গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে অটো-রিক্সা কিংবা ভ্যানে চড়ে নিজে মাইকিং করেছেন। নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে কেনাকাটা করে সাধারণ মানুষ, এজন্য নিজে রং কিনে দোকানের সামনে ‘মার্কিং’ করে দিয়েছেন। আবার উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ‘স্প্রে-মেশিন’ দিয়ে জীবাণুনাশক ‘স্প্রে’ করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কথা ভেবে মসজিদও বাদ পড়েনি তার এই ‘স্প্রে’র আওতা থেকে। রাস্তার মোড়ে নিজ উদ্যোগে বেসিন বসিয়ে সেখানে পানির ব্যবস্থা রেখে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এটা মূলত সাধারণ মানুষের হাত ধোয়া বিষয়টি অণুশীলনের জন্যই করেছেন।
ছবি:বার্তাবাজার।

নিজের ব্যক্তিগত টাকায় গভীর রাতে ৩৫০টি পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী রেখে এসেছেন প্রচারবিমুখ এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ওই খাদ্য সামগ্রীর ভিতরে ছিলো- পরিবার প্রতি ৫ কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি লবন, ১ কেজি আলু এবং ১ কেজি পিঁয়াজ। পাশাপাশি নিজের টাকা ব্যয় করে শিশুদের জন্য শিশু খাদ্যও তুলে দিয়ে এসেছেন বিভিন্ন অসহায় পরিবারের মায়েদের হাতে।
ছবি:বার্তাবাজার।

সম্প্রতি, তাকে দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গভীর রাতে বাড়ির দরজায় এক কেস (৩০টি) ডিম রেখে আসতে। কখনো রেখে এসেছেন ডজন খানেক পাকা কলা। মোটকথা, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি যা পারছেন সেভাবেই অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের জন্য করছেন যা অন্য সামর্থ্যবানদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার যোগ্য বলে মনে করি।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাকারিয়া (দিপু) জানান, প্রচারের জন্য এসব করছি না। দেশের এই ভয়াবহ মহামারি সংক্রমণের সময় আমার প্রিয় ধামরাইয়ের মানুষ যাতে এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পায়, এজন্য আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার চেষ্টা করেছি। এটা নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এসেছে এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক একজন কর্মী হিসেবে মানবিক যে শিক্ষা পেয়েছি, আমার বর্তমান কর্মকান্ড তারই ফসল যা এখন বাস্তবে প্রয়োগ করছি।

ধামরাইয়ের অন্যান্য বিত্তবানদেরকে ও দেশের এই দুঃসময়ে সাধারণ অসহায় ধামরাইবাসীর পাশে এসে দাঁড়ানোর আহবান জানান সাবেক এই মানবিক ছাত্রলীগ নেতা।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর