মুন্সীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে ১৪

নতুন দুইজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তসহ মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৪ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় একজন নারী, সিরাজদিখান উপজেলায় নারীসহ দুইজন, টংগিবাড়ী উপজেলায় পাঁচজন, গজারিয়া উপজেলায় চারজন, শ্রীনগর উপজেলায় একজন ও লৌহজং উপজেলায় একজন রয়েছেন।

সোমবার (১৩এপ্রিল) সকালে আইইডিসিআর থেকে সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পাঠালে, এতে দুইজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায় বলে বার্তা বাজারকে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ।
নতুন আক্রান্তরা হলেন- লৌহজং উপজেলার নাগেরহাট এলাকার একব্যক্তি (৪৮) ও সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকার একব্যক্তি (৪৪)। এরআগে গতকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে, করোনা পজিটিভ পাওয়া একব্যক্তি নারায়াণগঞ্জে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মারা যায় ।

আক্রান্তদের মধ্যে ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে এবং আজ আক্রান্ত দুইজনকে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে গজারিয়া উপজেলায় আক্রান্ত একজন এবং টংগিবাড়ী উপজেলায় তিনজনকে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । এছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে আছেন আরো একজন। আক্রান্ত সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

এ দিকে, লৌহজং উপজেলায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় নাগেরহাট কমিউনিটি ক্লিনিক অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে বার্তা বাজারকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খাঁন। এছাড়া তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় ওই গ্রামের ছয়টি পরিবারের পাশাপাশি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী ও তার পরিবারকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে , সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশফিকুন নাহার জানান, রোগী সচেতন হওয়ায় করোনা উপসর্গ দেখার পর থেকেই নিজ ঘরে রয়েছেন। তাই সেখানে কোন বাড়িঘর আপাতত লকডাউন করতে হচ্ছে না। তবে, কিভাবে করোনা আক্রান্ত হলো সে নিজে বলতে পারছেন না এবং সাম্প্রতি সে ঢাকা ও নারায়াণগঞ্জ যায়নি বলে জানান। যদি তার সংক্রমণের বিষয়ে জানা যায় তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকাল রবিবার পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো ১২ জনের পরীক্ষা রিপোর্টে দুইজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এ নিয়ে জেলায় ১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে, নারাণগঞ্জ থেকে এনে মুন্সীগঞ্জে দাফন দেওয়া ব্যক্তির সোয়াব যেহেতু এই জেলা থেকে পাঠানো হয়েছিল, তাই মুন্সীগঞ্জের সাথে এটি গননা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাবের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হতে ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিজ জায়গায় অবস্থানের পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা সন্দেহে নতুন ২৩ জনসহ ১২৮ জনের সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠিয়েছেন। এরমধ্যে ১০৫ জনের সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে । যারমধ্যে একজন মৃত ব্যক্তিসহ ১৪ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন, বাকিরা স্বাভাবিক।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর