খাদ্য গুদামের দেড় কোটি টাকার চাল ও বস্তা গায়েব!

কিশরগঞ্জের ভৈরবে সরকারি খাদ্য গুদামের দুর্নীতির সত্যতা মিলেছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টে গুদামে ৮১ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪২৬টি নতুন খালি বস্তার নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি হিসেবে যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি।

গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রসাশকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান (সহকারী কমিশনার) এইচ এম খোদাদাত হোসেন। এছাড়াও তদন্ত কমিটির লিখিত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন বলে জানান কিশোরগঞ্জ জেলা প্রসাশক মো. সারোয়ার মুশের্দ চৌধুরী।

জানাগেছে, গত ২১ মার্চ খাদ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক (ডিজি) সারোয়ার মাহমুদ আশুগঞ্জ সাইলো পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফেরার পথে আচমকা ভৈরব সরকারি খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে আসেন। পরে তিনি ২ এবং ৩ নম্বর গুদামে প্রবেশ করে কৌতুহলঃবশত মই নিয়ে চালের খামালে উঠেন। এসময় তিনি চালের খামালের ভেতরে কোনো চাল না পেয়ে দু’টি গুদামই সিলগালা করে দেন। এছাড়া গুদামের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে একটি রাস্তা দেখতে পান। তিনি রাস্তাটিও দ্রুত বন্ধ করতে মুঠোফোনে কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেন।

ডিজির এমন নির্দেশে পরের দিন রোববার দুপুরে খাদ্য গুদামে সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গা রাস্তাটি বন্ধ করতে আসেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন ভূইয়া। এসেই তিনি দেখেন সিলগালা করা গুদাম খোলে ভেতরে চালের খামালে শ্রমিকরা কাজ করছে। এসময় তিনি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম ও গুদামের ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করলে তারা অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন।

পরে সিলগালা ভেঙ্গে ফেলায় এবং গুদামের ভেতরে নয়-ছয়ের বিষয়টি মুঠোফোনে ডিজিকে অবহিত করেন তিনি। পরে খাদ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক (ডিজি) সারোয়ার মাহমুদের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুদাম খোলে নয়-ছয়ের সত্যতা পাওয়ায় ১০ জন শ্রমিকসহ গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম ও ঠিকাদার ফারদুল্লাহকে আটক করেন। একই সাথে পুনরায় গুদাম দু’টি সিলগালা করে দেন।

সেদিন রাতেই ডিজির নির্দেশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন বাদী হয়ে গুদামের শ্রম ও পরিবহন ঠিকাদার ফারদুল্লাহ এবং গুদামের ওসি কামরুল ইসলাম ও ১০ জন শ্রমিকসহ ১২ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটক হওয়া গুদাম কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ১২ জনকেই কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানেও তারা কারাবাস করছে। সূত্র-দৈনিক পূর্বকন্ঠ।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর