প্রতিদিন মানুষের মেলা বসে দিনাজপুরের কাঞ্চন ব্রিজের নিচে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করেই দিনাজপুর কাঞ্চন ব্রিজের নিচে প্রতিদিন শতশত মানুষের আড্ডা বসছে। কেউ কেউ খেলা করছে এই ব্রিজের নিচে। এতে করোনাভাইসের সংক্রামণ ঝুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল হলেই কাঞ্চন ব্রিজের নিচে আশপাশের কয়েক শতাধিক মানুষ এখানে জড়ো হয়ে আড্ডাখানা বসায়।

তবে পুলিশ বলছে, তাদেরকে দফায় দফায় সেখানে থেকে ধাওয়া দিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হলেও কোন উপকারে আসে না। একদিকে ধাওয়া দিলে তারা অন্য দিকে এসে পুলিশের সাথেই তামাশা করে! গত রবিবার বিকালে সরেজমিন কাঞ্চন ব্রিজের নিচে গিয়ে দেখা যায় কয়েক শতাধিক মানুষের ভিড়। ভিড়ের চিত্র দেখে মনে হতেই পারে সেখানে যেনো মানুষের মেলা বসেছে।

নদীর চরে জটলা হয়ে কেউ জুয়াও খেলছে! আবার কয়েকজন করে কাছাকাছি বসে আড্ডাও দিচ্ছে। কেউ কেউ ফুটবল আবার কেউবা ক্রিকেট খেলছে! এমন অবস্থা বিরাজ করলে অবস্থা খুব ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন ওই এলাকার সচেতন মানুষ। কাঞ্চন এলাকার হঠাৎ পাড়ার মো. সেলিম আহমেদ জানান, প্রতিদিন বিকাল হলেই এই কাঞ্চন ব্রিজের নিচে কত মানুষের মেলা লাগে না দেখলে বোঝা যাবে না! আমরা অনেককেই বলেছি এখানে জড়ো না হতে কিন্তু কেউ কথা শোনে না! বাধ্য হয়ে বলা বাদ দিয়েছি। এখন এখানে কারো করোনাভাইরাস সংক্রমণ থাকলে সবাইকেই মরতে হতে পারে!’

তবে কোতয়ালি থানার পুলিশ বলছে, পূনর্ভবা নদীর উপর যে কাঞ্চন ব্রিজ তার নিচে প্রতিদিন বিকালে অনেক মানুষের আগমন ঘটে। কয়েকদিন সেখানে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করেও কোন কাজ হয়নি। বরং উল্টো ওইসব লোকজন পুলিশকে দেখলে একদিকে পালিয়ে যায় আবার অন্যদিকে নেমে পড়ে!

কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ‘আমরা কাঞ্চন ব্রিজের নিচে কয়েকদিন অভিযান চালিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। একদিকে পুলিশ গেলে অন্যদিকে তারা মাঠে নেমে পড়ে। আমাদের তো পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নেই যে পুরো মাঠটিকে ঘিরে রাখবে। যে কয়েকজন ফোর্স যায় তারা নদীর যে চর সেখানে একদিকে যেতেই অন্যদিকে আবার মানুষের ঢল নেমে আসে। তারপরেও আমরা সেখানে আরো নজরদারি বাড়াবো।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি গত রবিবার বিকালে কাঞ্চন ব্রিজের নিচে গিয়ে মানুষ দেখে অবাক হয়েছি। আমরা সারাদিন রাত মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু অনকে মানুষ করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি গত রবিবার সেখানে গিয়ে সবাইকে ঘরে যেতে বাধ্য করিয়েছি। প্রতিদিন যেহেতু সেখানে এত মানুষের সমাগম হয় সেজন্য আমরা প্রতিদিন একটি টীম কাঞ্চন ব্রিজের নিচে অভিযান পরিচালনা করব।’

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর