প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো কোন ওষুধের স্বীকৃতি দেয়নি। তবে করোনার চিকিৎসায় কাজে আসবে, এমন ওষুধ নিয়ে বিশ্বের ছোট-বড় অনেক কোম্পানি কাজ করছে। পরীক্ষামূলক অনেক ওষুধের ব্যবহারে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক মো. বিল্লাল আলম গণমাধ্যমকে জানান, এখনো করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কোন কোন দেশে হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে থাকলেও সেগুলো চিকিৎসা ব্যবস্থায় আসতে আরও কয়েকমাস সময় লেগে যাবে।
বর্তমানে দেশে চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের সঙ্গে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ফ্যাভিপিরাভিরও ব্যবহারে বেশ সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।
‘ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শতভাগ পরামর্শ দেয়নি, কিন্তু প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এটা নিয়ে সবাই বেশ আশাবাদী হয়ে উঠছে।
জাপানের তোয়াহা কোম্পানির এই উপাদানের তৈরি ওষুধের ব্রান্ড নেম অ্যাভিগান।
অধ্যাপক আলম আরো বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা আশি শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। টেলিমেডিসিন দিয়েই বা ঘরে থেকেই তারা সুস্থ হয়ে যান।
বাকি ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে, যেখানে নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা থাকে, সেখানে আমাদের এসব ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্যান্য সমস্যা থাকে, এসব ওষুধের পাশাপাশি তাদের সেসব সমস্যার ওষুধও দিতে হয়।
বাংলাদেশের ন্যাশনাল গাইডলাইন অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অফ করোনা ভাইরাস ডিজিজ-একরোনার চিকিৎসায় কয়েকটি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস চিকিৎসা করতে গিয়ে যেসব ওষুধ ব্যবহারে কিছুটা উপকার পেয়েছে সেগুলোই ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এর কোনটাই করোনা ভাইরাস পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম না।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস