নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে জনবহুল বরিশাল অনেকটাই ফাঁকা। কর্মচঞ্চল এ শহরের বুকজুড়ে বিরাজ করছে শূন্যতা। নেই আগের মতো কর্মব্যস্ততা, নেই মানুষের সমাগম। শহরের এমন ভিন্ন রূপে হতদরিদ্র দিনমজুর শ্রেণীর মানুষেরা বিপাকে পড়লেও তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সামর্থ্যবানেরা।
তবে মানুষ না থাকায় শহরের কুকুরগুলো পড়েছে বিপাকে। করোনার আকালে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারের সংকটে পড়েছে রাস্তার অসহায় কুকুরেরা। খাবার না পেয়ে শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছে ওরা। এমন পরিস্থিতিতে এই ক্ষুধার্ত কুকুরদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাদিরা।
তার পুরো নাম নাদিরা বিথী। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাট চুকিয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) থেকে। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১৫ দিন ধরে বরিশালের নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন তিনি। গল্পের বই আর মুভি দেখেই কাটছিলো তার সময়।
তবে হুট করে দুশ্চিন্তায় পড়লেন রাস্তায় থাকা অসহায় কুকুরদের কথা ভেবে। খবর পেলেন, চলমান লকডাউনের কারণে সড়কের কুকুরগুলো পাচ্ছে না পর্যাপ্ত খাবার। এসকল পথ কুকুরদের আহার যোগাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহায্যের আহ্বান করলেও হয়েছেন নিরাশ। পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। এরপর আর কি, “একলা চলো রে” বললেন নাদিরা নিজেই।
জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল থেকে কুকুরদের খাবার দিয়ে আসছেন নাদিরা। নিজ হাতে ভাত আর মুরগি রান্না করে মাস্ক আর গ্লাভস পরে খাবারের ব্যাগ হাতে নিয়ে ছুটছেন নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার বিভিন্ন অলিতে-গলিতে। গত চারদিনে প্রায় ৭০ এর অধিক কুকুরের আহার জুগিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে নাদিরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের প্রতি অন্যরকম একটা ভালোবাসা কাজ করে৷ মূলত আমরা যে যার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব অসহায় মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করি৷ মানুষ তাদের কষ্টর কথাটা বলতে পারে৷
কিন্তু এই অভুক্ত প্রাণী গুলো কিছুই বলতে পারেনা৷ দেশের এমন অবস্থায় সবজায়গাতেই লক ডাউন। মানুষ বের হতে পারে না। দোকান অফ হোটেল অফ৷ মূলত এজন্যই চেয়েছি যে আসলে এসব অভুক্ত প্রাণীদের পাশে যদি একটু দাঁড়ানো যায়৷
তিনি আরো বলেন, আমি কাজটা করতে গিয়ে অসলে একা সবকিছু ম্যানেজ করে ওদের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া এসব একা করা একটু কষ্টসাধ্য৷ ওদের একা খাবার সার্ভ করা৷
এ ব্যাপারে আম্মু খুব সাহায্য করেছেন৷ না হলে হয়তো এটা করা সম্ভব ছিল না৷ একা ফিনান্সিয়ালি এটা চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য আমার জন্য তবে আল্লাহ যদি তৌফিক দান করেন ইচ্ছা আছে বৃহৎ পরিসরে এটা করার। এছাড়া সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটা সম্ভব অভুক্ত প্রানীদের সাহায্য করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।