প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ ইজিবাইক চালকদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরেও মানছে না সামাজিক সচেতনতা এবং সরকারি আদেশ। বরং প্রশাসসনের সাথে চোর পুলিশ খেলা করে শহরের মধ্যে চলাচল করছে ইজিবাইক। এতে একদিকে যেমন যাত্রীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুকিতে আছে অপরদিকে চালকরাও আছে ঝুকিতে।
গত কয়েকদিন আগে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইজিবাইক চালকদের ১০ দিনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যই ছিল যাতে শহরের কোন ইজিবাইক চালক ঘর থেকে বের না হয়। কিন্তু খাদ্য সামগ্রী পাওয়ার পরেই শহরের মধ্যেই দেখা যায় ইজিবাইক চালকদের আনাগোনা।
রবিবার সকালে দিনাজপুরের কলেজ মোড় এলাকায় দেখা যায় একটি ইজিবাইক চালকদের লম্বা লাইন। সেখানে সবাই যাত্রাীর অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে নিজেদের ইজিবাইক গুলো দ্বার করিয়ে রেখেছে। অনেকে আবার যাত্রী ছাড়াই ইজিবাইক নিয়ে শহরের মধ্যে চলাচল করছে। এতে শহরে যানবাহনের উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রশাসন ও পুলিশ যেখানে বসছে সেই রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক চালকরা না গিয়ে অন্য রাস্তা ব্যবহার করছে। প্রশাসন ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েই চলছে এসব ইজিবাইক।
কলেজ মোড় এলাকার ইজিবাইক চালক মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘আমি খাদ্য সামগ্রী পাইনি। ঘরে থেকে কি করব? অটো নিয়ে বের হয়ে যদি ১০০ টাকা হয় তাহলে সেটা দিয়ে বাজার করব। এজন্যই রাস্তায় অটো নিয়ে বের হয়েছি।’
শহরের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা ইজিবাইক চালকদের জরিমান করার পরেও থামছে না এই ইজিবাইক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের সচেতনতা অব্যাহত থাকলেও কোন ইজিবাইক চালকরাই সেটার তোয়াক্কা করছেন না!
এর আগে গত শনিবার বিকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় সকল প্রকার যানবাহনের প্রবেশ ও জেলা থেকে সকল প্রকার যানবাহনের বর্হিগমন বন্ধ ঘোষণা করা হলো। অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে বা কাজে চলাচলকারী রিকশায় একজনের বেশি যাত্রী ও মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কোন যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হলো। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাহির হতে পারবেন না। অন্যান্য সময়ে অতীব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহির না হতে অনুরোধ করা হয়েছে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল সীমিত করা হলো।
তবে এ আদেশে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও জরুরি কাজে কর্মরত ব্যক্তি বা যানবাহনের ক্ষেত্রে এ আদেশ শিথিল থাকবে বলে বলে উল্লেখ করা হয়।
এই আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলার সকল প্রবেশ ও বর্হিগমন স্থানে বা পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ চেকপোষ্ট কার্যক্রম থাকবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজেম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জরিমানা অব্যাহত রেখেছি কিন্তু ইজিবাইক চালকরা কথা মানছেন না। আমরা আরো কঠোন অবস্থান নিয়ে শহরের ইজিবাইক গুলো নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করছি। তবে সবার আগে ইজিবাইক চালকদের সচেতন হতে হবে।’
বার্তা বাজার/এম.সি