মাদ্রাসা অধ্যক্ষের করোনায় মৃত্যু হয়েছে এই তথ্য গোপন করে এলাকায় সহস্রাধিক মুসুল্লীর অংশগ্রহনে জানাজা ও দাফন করার অভিযোগে তোলপাড় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাগঞ্জ এলাকা। মারা যাওিয়া ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনের ১০টি বাড়ি লকডাউন করে শিয়ালদি ও মোস্তফাগঞ্জ এলাকার সবাইকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একই সাথে ওই ব্যাক্তির তথ্য গোপন করে রাজধানীর গেন্ডারিয়া ও ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগের যে কয়জন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংস্পর্শে আনা হয়েছিল তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগ।
গত ৫ এপ্রিল ওই ব্যাক্তি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে এগুলো গোপন করে ভরতি হন গেন্ডারিয়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। একই উপায়ে চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করেন ঢাকা মেডিকেল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। ৮ এপ্রিল তার মৃত্যু হলে নমুনা পরীক্ষা করে তার করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়।
এরপর তার আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে কোনো তথ্য যাচাই না করেই স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ নিয়ে লাশ নিয়ে যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদি গ্রামে। ৯ এপ্রিল সকালে মোস্তফাগঞ্জ মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তার আত্মীয়-স্বজনসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
এদিকে ৯ এপ্রিল দুপুরে আইইডিসিআর থেকে ঐ ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ খবর সিরাজদিখান থানায় দেওয়া হয়।
সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর মধ্যম শিয়ালদি গ্রামে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। মধ্যম শিয়ালদি ও মোস্তফাগঞ্জ গ্রামে পুলিশ মাইকিং করে। ঐ দুই গ্রামের কেউ যেন বাইরে না যায়। এছাড়া ঐ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা লোকজনের ১০টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়।
বার্তাবাজার/এসজে