নোভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় মৃত্যুমিছিল অব্যাহত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২ হাজার ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে মৃত্যু সংখ্যার নিরিখে যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
গত চার মাসে বিশ্বের আর কোনও দেশে একদিনে এত সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির রেকর্ড নেই।
মৃত্যুর নিরিখে এখনও পর্যন্ত বাকি সব দেশের চেয়ে এগিয়ে ইটালিই। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেখানে মৃত্যুসংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৮৪৯। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুসংখ্যা এসে ঠেকেছে ১৮ হাজার ৭৭৭-এ। যে হারে মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে চলেছে ট্রাম্পের দেশে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যায় ইটালিকে ছাপিয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা।
একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৬০ মানুষ নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯ হাজার ১৩২ জন। এর মধ্যে নিউইয়র্কের পরিস্থিতিই সবচেয়ে সঙ্কটজনক। এখনও পর্যন্ত সেখানে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন। তার পরেই রয়েছে নিউ জার্সি। ৫৪ হাজার আক্রান্তের মধ্যে ২ হাজার জন প্রাণ হারিয়েছেন সেখানে।
তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের তরফে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনার প্রকোপে সে দেশে ১-২ লক্ষ প্রাণহানি হতে পারে।
তবে পরিস্থিতি খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে ইটালিতে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে মৃত্যুসংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৩২১। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন সেখানে। এ দিন সকাল পর্যন্ত স্পেনে ১৬ হাজার ৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৭৩-এ।
জার্মানিতে এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৭৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৭২ জন। তবে করোনার প্রকোপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে চিন। শুক্রবার নতুন করে ৪৬ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন সে দেশে। এখনও পর্যন্ত সে দেশে ৩ হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৮৩ হাজার ৩ জন।
সবমিলিয়ে গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ২ হাজার ৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬২৬ জন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি