করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামের মধ্যেও চলছে লকডাউন। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা দিয়ে বাঁশ অথবা গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখছে। সচেতনতার জন্য কিংবা করোনভাইরাস সংক্রমণ না হওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করা হলেও যারা এই কাজটি করছেন তারাই মানছেন না লকডাউন ব্যবস্থা! উল্টো, যারা লকডাউনের কাজ করছে তারাই আবার বেশ কয়েকজন জমায়েত হয়ে ভিড় করছেন এলাকায়।
দিনাজপুর শহর ও আশপাশের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এরকমই চিত্র চোখে পড়েছে। দিনাজপুরের শহর ও গ্রাম গুলোতে যারা স্বেচ্ছায় লকডাউন করে বাঁশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারাই মানছেন না এই লকডাউন ব্যবস্থা। অনেকেই লকডাউন করে সেখান দিয়ে কিভাবে মানুষ যাচ্ছে, কতজন যাচ্ছে এগুলো দেখার জন্য জটলা পাকিয়ে একসাথে কয়েকজন করে বসে আছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যারা লকডাউন করে সেই ব্যবস্থা মানছেন না বরং তাদের জন্য এরকম লকডাউন বেশি ঝুকিপূর্ণ। লকডাউন করার অর্থই হলো সেখানে কোন মানুষজন চলাচল করবে না, কেউ জটলা পাকিয়ে থাকবে না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি জটলা পাকানো হয় তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
দিনাজপুর শহরের গোপালগঞ্জ এলাকার চেহেলগাজী এলাকায় বাঁশ দিয়ে আটকানো পথের পাশেই দেখা যায় কয়েকজন যুবক একসাথে হয়ে গল্প করছে। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা এখানে যারা আছি তারা এই রাস্তা লকডাউন করেছি। তারা এতজন একত্রিত হয়ে কি করছেন জানতে চাইলে অনেকেই বলেন, ‘আমাদের এখানে এখনো করোনাভাইরাস আসেনি। আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি যাতে বাইরের মানুষ কেউ ঢুকতে না পারে। আর আমরা যারা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি তারা সবাই এখানে আছি যাতে কেউ গেলে তাকে আমরা বাঁধা দিতে পারি। এই পরিস্থিতি দিনাজপুরের অনেক জায়গায় দেখা যায়। যারা রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে তারাই আবার রাস্তার মোড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি এলাকায় যদি কেউ এরকম করতে চায় তাহলে ওই এলাকার সবার সম্মতিক্রমেই এটি করতে হবে। কেউ যদি লকডাউন করতে মানা করে আবার দেখা গেল লকডাউন যে জন্য করা হচ্ছে সেটি যদি মানা না হয় সেক্ষেত্রে আমরা মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। আবার লকডাউন করে অনেকজন জটলা বাধিয়ে থাকাও যাবে না। আমরা সবাইকে আগে সচেতন হব, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব তারপর অন্যকে সচেতন করব।’
বার্তা বাজার/এম.সি