চলমান করোনায় বিধ্বস্ত সারা বিশ্ব। থমকে দিয়েছে মানব সভ্যতাকে। ঢাকাতেও তাই হয়েহে। কোটি মানুষের বসবাস ঢাকা যেন আর সহ্য করতে পারছিল না তার উপর সত্যতার নামে অসভ্য মানুষগুলোর অত্যাচার। ঠিক তখনই অদৃশ্য এক বস্তু এসে নীরব করে দিয়েছে পুরো ঢাকাকে। যে প্রভাব পড়েছে ঢাকার পরিবেশ ও আশেপাশের নদীগুলোর মাঝেও।
পুরোপুরি ঠিক না হলেও অনেকাংশে বদলে গেছে ঢাকার প্রধান নদী বুড়িগঙ্গা। কমেছে উৎকট দুর্গন্ধ। পানির রং সেই আগেরমত কুচকুচে কালোই রয়ে গেছে। ঘুমিয়ে থাকা বুড়িগঙ্গা, প্রাণহীন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল দেখলেই মনে হবে এযেন অন্য এক দুনিয়া। আর এই নির্জীবিতার সুযোগে সুস্থ হয়ে উঠছে মানুষের অত্যাচারে অতিষ্ঠ নদী বুড়িগঙ্গা।
সদরঘাট থেকে কিছুটা দুরের বুড়িগঙ্গারই আরেক ঘাট কামরাঙ্গীরচর খোলামোড়া ঘটের চিত্র আরও ভাল। সেখানে পানির রং অনেকটা বদলে গেছে। কারখানাগুলো বন্ধ থাকলেও মানুষগের বাসাবাড়ির সব বর্জ্য ঠিকই বুড়িগঙ্গার বুকে পড়ছে।
করোনার প্রভাবে ব্দলে যাচ্ছে আরেক নদী তুরাগ। সেখানেও উন্নতি হচ্ছে পানির। ঢাকার উপকন্ঠ সাভারের ধলেশ্বরীতে বেশ কিছুদিন ধরে পড়ছেনা ট্যানারির বর্জ্য। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকে সাভারের হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সুন্দর পানির ধলেশ্বরী যেন এক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছিল।ট্যানারি বন্ধ থাকায় কদিনেই পুরোপুরি বদলে গেছে নদীর চিত্র। যেন নতুন প্রাণ ফিরেছে এই স্রোতস্বিনী।
সর্বোচ্চ বায়ু দুষনের যে বদনাম ছিল ঢাকার নামে, সেটাও অনেকাংশে ঘুছে গেছে।
করোনার আতংক শেষে আবার হয়ত ঘুম ভাঙবে এই শহরের। প্রতিটা কণায় কণায় ছড়াবে বিষ। কিন্তু প্রকৃতি কি মানুষকে মাফ করে দিবে?
বার্তাবাজার/এসজে