করোনা সন্দেহে রাস্তায় ফেলে পালালেন ভ্যানচালক, অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে আসায় মৃত্যু!

ঝিনাইদাহ থেকে কাজের জন্য ফরিদপুরে এসেছিলেন ছামাদ মন্ডল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে করুণ মৃত্যু হলো তার। একদিকে মানুষের করোনা ভীতি, অন্যদিকে দেড়িতে এ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো ও মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাফিলতি! এ দু’টি কারনেই তার এই নির্মম মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, জীবিকার সন্ধানে ফরিদপুরের কামারখালী এলাকায় এক বাড়িতে কাজের জন্য এসেছিলেন ঝিনাইদহ জেলার খাজুরিয়া গ্রামের মো. ছামাদ মন্ডল। হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। জ্বর বেশি থাকায় তিনি শুক্রবার(১০ এপ্রিল) সকালে একটি ভ্যানে বাড়িতে রওনা দিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে তার জ্বর বেশি দেখা দিলে ভ্যান চালক তাকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান।

এরপর সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে মাঝিবাড়ি গোল্ডেন জুট মিলের পাশে একটি মাঠে ছামাদ মন্ডল জ্বর নিয়ে পড়ে থাকেন। এ সময় তার করোনা হয়েছে এই ভয়ে তার কাছে কেউ না গিয়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়। প্রশাসন জানার সাথে সাথে সেখানে গিয়ে তাকে ঔষধ দেয়া হয় জ্বরের। এরপর তারা মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে বিষয়টি জানালেও তারা দেড়ি করে সেখানে উপস্থিত হয় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কত্যর্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে বার বার বিষয়টি জানালেও তারা তেমন ভাবে গুরুত্ব দিলেন না। একাধিকবার তাদের সহযোগিতা চেয়েও আমরা পায়নি।

এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মোনায়ার সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় কুইক রিসপোন্স যেভাবে হওয়ার কথা ছিলো সেটা হয়নি। এর প্রধান কারন করোনা রোগির জন্য জেলায় বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি দেড়িতে পৌঁছানোর কারনে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারপরও প্রশাসন থেকে সেখানে গিয়ে তাকে ঔষধ দেয়া হয়। তাৎক্ষণিক যদি ফরিদপুর মেডিকেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি আসতো তাহেল হয়তো এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো না।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজা সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের কোন গাফলতি নেই এই ঘটনায়। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এখানে ফরিদপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি দেড়িতে পৌঁছানোর কারনে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সটি রয়েছে কিন্তু সেটি হাসপাতালের সাধারন রোগির জন্য ব্যবহৃত হয়, সেটি আমি কি করে দেই। সেটি দিলে ১৪ দিন আমাদের ওই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে পারবো না। এই জন্যই ফরিদপুর থেকে করোনা রোগির জন্য জেলায় বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি চেয়েছিলাম। এর ড্রাইভার না পাওয়া একটি বড় কারন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে রাত পৌনে ১১টার দিকে রোগিটি আসে। মৃত অবস্থায় পায় তাকে। এখন ডেডবডি রুমে রাখা হয়েছে নিয়ম মেনেই। শনিবার সকালেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি জানান।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর