আজকের দুপুর(০৯/০৪/২০২০) পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সারাজাহানের মোট মানুষ মারা গেছেন ৮৮,৬৫৬ জন। তার ভিতরে বিশ্বের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনীতি করেন এমন ১৬টি দেশের মৃত্যুর সংখ্যা হলো ৮২,৪২৮ জন। আর বাকী সমস্ত বিশ্বের মৃত্যু সংখ্যা হলো ৬,২২৮ জন !
আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১৫,২১,৯২৪ জন। তার ভিতরে ঐ ১৬টি দেশের আক্রান্ত রোগী হলো ১৩,২৩,৮৭৫ জন। বাকী ১,৯৮,০৪৯ জন বাকী সমস্ত বিশ্বের। বিশ্ব বলতে ৭৮০ কোটি মানুষের আরো প্রায় দু’শ দেশসহ বিশ্ব।
ঐ ষোলটি দেশ হলো;– যুক্তরাষ্ট্র, যাদের এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪,৩৫,১৬০ জন, মৃত্যু ১৪,৭৯৭ জন। স্পেনের আক্রান্ত ১,৪৮,২২০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১৪,৭৯২ জন। ইতালির আক্রান্ত হয়েছে ১,৩৯,৪২২ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১৭,৬৬৯ জন।
জার্মানীতে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৩,২৯৬ জন আর মৃত্যুবরণ করেছে ২,৩৪৯ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছে ১,১২,৯৫০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১০,৮৬৯ জন। চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮১,৮৬৫ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৩,৩৩৫ জন। ইরানে আক্রান্ত হয়েছে ৬৪,৫৮৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৩,৩৯৩ জন।
যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৬০,৭৩৩ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৭,০৯৭ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছে ৩৮,২২৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৮১২ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩,৪০৩ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২,২৪০ জন।
সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছে ২৩,২৮০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জন। নেদারল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছে ২০,৫৪৯ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২,২৪৮ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত হয়েছে ১৩,১৪১ আর মৃত্যু হয়েছে ৩৮০ জন।
অস্টিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩,০১১ জন আর মৃত্যু বরণ করেছে ২৯৫ জন। কানাডাতে আক্রান্ত হয়েছে ১৯,৪৩৮ আর মারা গেছেন ৪৩৫ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছে ১৬,১৯৫ আর মারা গেছেন ৮২২ জন।
লক্ষ্য করুন, সবদেশ দুই ব্লকে বিভক্ত। কেউ সমাজতন্ত্রের ব্লকের, বেশিরভাগ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ব্লকের এবং সবাই নেতৃত্ব দেওয়ার দেশ কিংবা নেতা দেশগুলোর স্টং সার্পোটার। আরো লক্ষ্য করুন, প্রথমে মারা গেছে কমিউনিজম ব্লকের দেশে বেশি মানুষ, এখন মারা যাচ্ছে পুঁজিতান্ত্রিক দেশগুলোর ব্লকের দেশের মানুষ এবং সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে ন্যাটোর দেশগুলোর মানুষ।
গতকাল সারা দুনিয়াতে করোনা রোগে মানুষ মারা গেছেন ৬,৪১৪ জন। তার ভিতরে আমেরিকার এবং ইউরোপের ১২টি দেশ মিলে মারা গেছেন ৫,৬৫৮ জন। আর বাকী সমস্ত বিশ্বের মিলে মারা গেছেন ৭৫৬ জন ! এটি একটি প্রণিদান যোগ্য ডাটা।
লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ইউরোপের বাকী ৩৬টি দেশের মিলে মারা গেছেন ১৪৩ জন, যার ভিতরে ১৪টি দেশে একজনও মারা যায়নি, যারা বিশ্ব রাজনীতিতে তেমন মাথা ঘামান না। অথচ গতকাল শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছেন ১,৯৪০ জন মানুষ !
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তের খবর হলো, সরকারী হিসেবে ডিটেক্টড ৩৩০ জন। তার ভিতরে আজকেই ১১২ জন এবং এ পর্যন্ত মারা গেছেন একুশ জন। এই খবরে অনেকে ভয় পাবেন। টেস্ট যত বাড়বে, সংখ্যাও তত বাড়বে। সে সংখ্যা হাজার হাজারও হতে পারে। তাই সংখ্যা দেখে ভয় পেলে চলবেনা।
ভয়ের কিছু নেই। তবে সচেতনতার কিছু আছে। আপনাকে সাবধান হতে হবে। শক্তি এবং মনোবল বাড়াতে হবে।। সচেতন থাকতে হবে। পরিছন্ন এবং নিঃসঙ্গ থাকতে হবে। যুদ্ধে জিততে হলে প্রথমে ভয়ের সাথে জিততে হবে। অসীম সাহস লাগবে।
দেখেন, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঠিক হলে আমাদের কোন ভয় নেই। তাহলে এগুলো হচ্ছে সেকেন্ড হ্যান্ড ভাইরাস, যার দ্বারা প্রাণহানি হবে বহু কম। মানে রাজনৈতিক ভাইরাস হলে আমাদের ভয় নেই।
আর যদি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মিথ্যা হয়, তাহলেও আমাদের অনেক ভয় নেই। করোনাভাইরাস যেখানে প্রথম ধরা পড়েছে সেই উহানে আক্রান্ত হয়েছে মোট নাগরিকের তিন শতাংশ। তারমানে তারা যেহেতু তখন এর ভয়াবহতা জানতেন না, তারা নিশ্চয় বেপরোয়াভাবে চলাচল করেছেন ! তারপরেও সেখানে আক্রান্ত হয়েছে শতে তিনজন করে ! তারমানে পৃথিবীর সবাই এই রোগে আক্রান্ত হবেন না।
সুতরাং ভয় নয়, সচেতন থাকুন। তবে এই খবর পেয়ে দৌড় দিয়ে বের হয়ে রাস্তায় চলে যাবেন না। আপনি যেদিন মরবেন সেদিনই আপনার কেয়ামত।
এই ভাইরাসের স্থায়ীত্ব দীর্ঘ সময় নয়। আমরা দেখতেছি, আগে আক্রমণ করেছে সে রকম বহু দেশে এটির প্রকটতা এখন কমে আসছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের উপরই ইহা বেরহম।
সুতরাং আরো দুটি সপ্তাহ ঘরে থাকুন। বিপদ কেটে যাবে। ভালো খবর আসবে। ভয়ের কিছু নেই। ঘরে থাকুন। প্রার্থনা করুন। মনটা শান্ত রাখুন। ভালো খবর সামনেই আসছে। (লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত)
লেখক : গবেষক ও কলামিষ্ট
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস