সাধারণ কেউ নয়, একমাত্র পুলিশই হয় চিরবিদায়ের সঙ্গী!

নভেল করোনা ভাইরাস(কভিড-১৯) সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। অতি মাত্রার ছোঁয়াছে এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে সেই ব্যক্তির কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার কেউ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও মৃতদেহের কাছে কেউ যাচ্ছে না। সর্বত্র এমন ছবিই আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশের বাহিনীর সদস্যরা করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের জানাজা, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করছেন। যা শুধু মহা মানবতার দৃষ্টান্ত নয় বরং দেশের সমগ্র পুলিশ বাহিনীর গৌরবময়ী উজ্জ্বল মানবতার প্রতীক হয়ে জ্বলজ্বল করছে সাধারণ মানুষের হৃদয়গহীনের কোমল অংশে। সত্যি, এমন সাহসীকতা, মানবতা ও মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। যা ইতিহাসে নজীর বটে।

ছবিটিতে দেখা যায়, ইমামসহ ১৩ জন জানাযা নামাজ পড়ছেন। এর মধ্যে ৫জন ব্যক্তিই পুলিশের পোশাক পরিহিত ও পিপিই পরিহিত ব্যক্তি তিনজন। বাকি যা আছে নিহতের পরিবারের।

সম্প্রতি রাজবাড়ী জেলা পুলিশের একটি ফেসবুক পেইজে এমনই একটি ছবি পোস্ট হয়েছে। সেখানে লেখা আছে, রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রামের ট্রাক চালক রুহুল আমিন (৩৫) ঢাকা থেকে আসার পর ৬ এপ্রিল দুপুর ২ ঘটিকার সময় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ছিল। তার শরীরে করোনা ভাইরাস ছিল কিনা তা পরীক্ষার নিমিত্তে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সন্দেহভাজন করোনা রোগী হওয়ার কারণে তার জানাযায় কেউ এলো না। হায়রে মানুষ! আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব এমন কি নিজ প্রতিবেশীও এলো না জানাযায়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জন মানুষকে নিয়ে কয়েকজন পুলিশকেই জানাযা সম্পন্ন করতে হলো।

সত্যি বলতে, দেশের এই দুর্যোগ ক্রান্তিলগ্নে পুলিশের এই অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। আজ রাজপথ যখন শূন্য, একমাত্র পুলিশই জীবনবাজী রেখে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে। রোদবৃষ্টি মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পালনের ব্রতঃ সংকল্প আর সাহসীকতায়- যা পুলিশের গৌরবময় ইতিহাসের একটি অংশবিশেষ মাত্র।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর