প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রামে রাজস্ব কর্মকর্তা পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রনধী বড়ুয়া
দেশে ব্যক্তিগত যানবাহনে রাষ্ট্রীয় লগো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারী সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে ব্যক্তিগত গাড়ীতে সরকারী লগোসহ বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের স্টীকার লাগিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লোহাগাড়ার রনধী বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তি। এই স্টীকার সাটানো গাড়ি ব্যবহার করে নিজেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিরবিলা এলাকার রনধী বড়ুয়া পেশায় একজন ছোট খাট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। নিজ এলাকার লোক জনের কাছে ঢাকা কাস্টমসের দাদাল বলে পরিচিত। গেলো মাসের ২৬মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ কাস্টমস, সিডিআর, কমলাপুর লিখা সরকারী স্টীকার যুক্ত (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৬৯৯২) একটি প্রাইভেট হাইয়েচ মাইক্রোতে করে ঢাকা থেকে বিবিরবিলা গ্রামের বাড়িতে আসেন।
প্রতিদিন বিবিরবিলা এলাকার সাবেক মহিলা মেম্বারের স্বামী নূরুল আমিনসহ উক্ত গাড়ীতে করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার লোকজন জানান, গাড়ীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টীকার দেখার পর থেকে এলাকার লোক জনের মাঝে কানাঘুষা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজনকে তিনি জাতীয় রাস্ব বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলে পরিচয় জাহির করেন। রনধী বড়ুয়ার কথা স্থানীয়দের কাছে অবিশ্বাস হলে বিষয়টির সত্যতা জানতে উক্ত গাড়ির চালকের সাথে কথা বলেন স্থানীয়রা।
চালকের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা আরো জানান, গাড়িটি মালিক রনধী বড়ুয়া। তিন গাড়িটি রাজস্ব বোর্ডের কাছে ভাড়া দেন। অফিস বন্ধ থাকায় তিনি ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসার সময় গাড়িটি নিয়ে আসেন। আসার পথে চালক উক্ত স্টীকার উঠিয়ে নিতে চাইলে রনধী বড়ুয়া উঠাতে দেননি বলে জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে রনধী বড়ুয়ার সাথে মুটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কিছুই বলতে নারাজ। এমনকি প্রতিবেদকের উপর ক্ষ্যাপে উঠে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তিতে ফোন করা হলে একজন মহিলাকে ধরিয়ে দেন।
এদিকে লোহাগাড়া থানা ওসি জাকের হোসেন জানান, রনধী বড়ুয়া অবৈধ ভাবে সরকারী লগো ব্যবহার করে থাকলে তিনি প্রতারনা বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এবিষয়ে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তিনি সরকারী প্রতিষ্টানের স্টীকার লাগিয়ে অন্য কোন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তার ব্যবহৃত উক্ত গাড়িতে সরকারী স্টীকার লাগানো থাকলে তাকে আটক করে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হবে।
কেএ/বার্তাবাজার