লোকালয়ের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘকাল ধরে ইট পোড়ানোর অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় সিলগালা করা হয়েছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মুকুন্দমধুসুধনপুর গ্রামের ওই ইটের পাঁঝা। টাকা না দেওয়ায় পাঁজা ম্যানেজার আনোয়ারুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল কাদের হেলালী জানান, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও শ্রীরামপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মুকুন্দমধুসুধনপুর দক্ষিণ পাড়ায় লোকালয়ের মধ্যে ইটের পাঁঝা তৈরি করে সেখানে ইট পুড়িয়ে আসছিলেন। তিনিসহ মুকুন্দপুরের আব্দুল কাদের গাজী, শ্রীধরকাটির ছাদেকুর শেখ ও কোমরপুরের রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বারবার উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও খুলনার পরিবেশ অধিদপ্তরের জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করায় তারা এলাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে সকল হুমকি ধামকি উপেক্ষা করে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। স্থানীয় গ্রামবাসির কথা ভেবে বৃহষ্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারি (ভূমি) কমিশনার ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পান। তখন তিনি সিরাজুল ইসলামকে না পেয়ে তার ম্যানেজার মুকুন্দমধুসুধনপুর গ্রামের আব্দুল গণি শেখের ছেলে আনোয়ারুল ইসলামকে আটক করে তার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় পাঁঝাটি সিলগালা করে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয়। খুব শীঘ্র ওই ইট নিলাম করা হবে বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারি কমিশনার শিফাত হাসন।
স্থানীয়দের অভিযাষোগ, সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে রাস্তার পাশে সরকারি গাছ কেটে পাঁঝায় নিয়ে পোড়ান। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের জানানোয় কয়েকজনকে হুমকি দেন ওই ইউপি সদস্য। সিলগালা করার পরেও ওই ইট রাতের আঁধারে অন্যত্র সরোনা হতে পারে বল আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন বলেন, জরিমানার টাকা দিলেই ম্যানেজার আনোয়ারুলকে ছেড়ে দওএয়া হবে বলে তিনি জেনেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার শিফাত হোসন বলেন, পাঁঝাটি সিলগালা করে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
বার্তা বাজার/এম.সি