করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে নমুনা সংগ্রহের কীট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে পৌঁছানো হয়েছে দাবি করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানেন না তাদের কাছে কত গুলো করে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের কীট এসেছে। তবে উপজেলা পর্যায়ে এসব কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আমাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য কোথাও ৩টা অথবা কোথাও ৪টা কীট প্রদান করেছেন সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলায় ১৩টি উপজেলা ও দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলে সর্বমোট নমুনা সংগ্রহের কীট এসেছে ২৮০টি। প্রতিটি উপজেলায় ২০টি করে নমুনা সংগ্রহের কীট প্রদান করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপজেলা গুলোতে ১০টি করে নমুনা সংগ্রহের কীট পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁরা নমুনা সংগ্রহের কীট ১০টি করে পাননি।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শফিউল আজম বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাস আক্রান্তের নমুনা সংগ্রহের কীট পেয়েছি ৪টি। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন রোগীকে পাইনি যাদেরকে এই কীট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করব। সিভিল সার্জন থেকে ১০টি কীট সরবরাহ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আামাদের ৪টির বেশি কীট দেয়নি।
আমি প্রথম দফায় এই কীটগুলো পেয়েছি। তবে এগুলো শেষ হলে সিভিল সার্জন অফিসে আরো আছে, সেখানে চাইলেই দিবে বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।’
একই কথা বলেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা। ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেইন বলেন, ‘আমার কাছে ৪টা নমুনা সংগ্রহের কীট এসেছে। আমরা তার মধ্যে একজনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি।’
মাত্র ৩টি নমুনা সংগ্রহের কীট পেয়েছেন বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা। বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেস বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত ৩টি নমুনা সংগ্রহের কীট পেয়েছি। কিন্তু রোগী না পাওয়ায় কীট গুলো এখনো কাজে লাগাতে পারছি না।’
তবে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আজমল হক বলেন, ‘আমি প্রথম দফায় ৩টি নমুনা সংগ্রহের কীট পেয়েছি। পরে দ্বিতীয় দফায় আরো ১০টি নমুনা সংগ্রহের কীট পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমি ৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। তাদের নেগেটিভ রির্পোট আসছে।’
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকরা দাবি করছেন, করোনা সংক্রান্ত লক্ষণ নিয়ে এখনো কোন রোগী আমাদের কাছে না আসায় আমরা নমুনা সংগ্রহের কীটগুলো ব্যবহার করছি না। ফলে বাড়তি কোন নমুনা সংগ্রহের কীটের দরকার পড়ছে না।
বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকরা করোনা আতঙ্কের ভয়েই সবাইকে নমুনা সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অনেক মানুষ জানেন না উপজেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক চিকিৎসক আবার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি বেশি প্রচার করতেও মানা করেছেন। নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি বেশি প্রচার হলে মানুষজনের ভিড় বেড়ে যাবে এই আতঙ্কে অনেকেই চুপচাপ আছেন।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ২৮০ টা নমুনা সংগ্রহের কীট এসেছে। আমি প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে কীট পাঠিয়েছি। তারা চাইলেই আরো কীট সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরো কীট পাবো আমরা।
উপজেলা পর্যায়ে এখনো ১০টি নমুনা সংগ্রহের কীট পায়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই আছে হয়ত প্যাকেট খুলে দেখেইনি প্যাকেটে কি আছে। এখন পর্যন্ত অনেকেই কোন নমুনাও পাঠায়নি। কেন এগুলো খুলে দেখেনি বা জানে না আমি বিষয়টি নিয়ে আজকেই সবার সাথে কথা বলব। সেই সাথে করোনা লক্ষণের যেকেউ আসলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
বার্তা বাাজার/এম.সি