করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ফরিদপুরে পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

সারাদেশ যখন করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে ঠিক তখন ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলায় দুই গ্রুপের পৃথক সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় আ.লীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে ময়না ইউনিয়নের বেলজানি গ্রামে দুই দফায় পাল্টাপাল্টি হামলায় কমপক্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন। এ সময় উভয় পক্ষের ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ও দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

জানা যায়, ময়না ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আ.লীগের বর্তমান সভাপতি বেলজানি গ্রামের জিন্নাহ মাতুব্বর ও সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন মাত্বব্বরের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলাউদ্দিনের সমর্থক সামাদকে জিন্নাহ’র লোকজন মারধর করে।

এর জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে জিন্নাহ মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় জিন্নাহ মাতুব্বরের ১৫ থেকে ২০ জন সমর্থক আহত হয়।

এর পাল্টা হিসেবে বুধবার সকালে জিন্নাহ’র সমর্থকরা আলাউদ্দিন সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জিন্নাহ সমর্থক ইমাম হোসেন (৩০) ও বায়েজিদ সিকদারকে (২৬) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আনসার বিশ্বাসকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জিন্নাহ মাতুব্বর ও আলাউদ্দিন মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য সম্ভব হয়নি।

থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুর রহমান জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

অন্যদিকে, সালথা উপজেলায় আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও মাঝারদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হামিদ মোল্যার সঙ্গে মাঝারদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুজ্জামান সাহিদের এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এরই জের ধরে দুপক্ষের সমর্থকরা মাঝারদিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত আটটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের গবাদী পশুর খাবারের খড়ের গাদায় এবং পাটখড়ির গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে সালথা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনার ব্যপারে বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর