শবে বরাতের রাত ইসলামেএকটি বরকত পূর্ণ রাত। এ রাতে আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন তাঁর অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। যে সকল ইবাদত করা যেতে পারে এ রাতে, তা নিম্নে দেওয়া হলো:
নফল নামাজ:
এ রাতে রয়েছে নফল নামাজ। আর এ নামাজে প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়া যাবে। তবে অনেক আলেমদের মতে সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী ও সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া ছওয়াবের কাজ। আর এ নফল নামাজ যত বেশি আদায় করা যায় ততই উত্তম। তবে কম্পক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা ভালো।
প্রতি ৪ রাকাত পর পর কিছু তাসবিহ-তাহলীল আদায় করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া কামনা করা অতি উত্তম।
কুরআন তেলাওয়াত:
কোরআন মাজিদের যেকোন জায়গা থেকে তেলাওয়াত করতে পারে তবে বিশেষ কিছু ফজিলত পূর্ণ সূরা যেমন-
সূরা ইয়াসিন।
সূরা আর রহমান।
সূরা ওয়াকিয়া।
সুরা মুলক।
সূরা বাকারার শেষের তিন আয়াত।
জিকির:
সুবহানাল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ ।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আল্লাহু আকবর।
এই জিকির গুলো যত সম্ভব করা যেতে পারে।
দুরুদ শরীফ পাঠ করা:
দুরুদে ইব্রাহিম বা অন্যান্য যেকোন দুরুদ শরীফ পাঠ করা যেতে পারে। তবে দুরুদে ইব্রাহিম বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
اللهم صل على محمد وعلى ال محمد، كما صليت على ابراهيم، وعلى ال ابراهيم، انك حميد مجيد، اللهم بارك على محمد وعلى ال محمد، كما باركت على ابراهيم، وعلى ال ابراهيم انك حميد مجيد.
বাংলা উচ্চারণ- আল্লহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ
ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন
কামা ছাল্লাইতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ-
লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজী-দ্ ।
আল্লাহুম্মা বারিক্ আ’লা মুহাম্মাদিওঁ
ওয়া আ’লা আ’লি মুহাম্মাদিন,
কামা বা-রাকতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ ।
তাওবা ও ইস্তিগফার:
সকল পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
প্রিয় পাঠক পরিশেষে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই নবীজির সেই হাদীসটি: মূল্যায়ন কর পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে। যার পঞ্চমটি হলো মৃত্যু আসার আগে জীবনকে মূল্যায়ন করো। হতে পারে এ শবেবরাতই আপনার জীবনের শেষ শবেবরাত। আগামী বছর শবেবরাত নসিবে হবে কিনা
আমাদের কারো জানা নেই। তাই আজকের শবে বরাতকে অবহেলা না করে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করে ক্ষমা চাওয়া উচিত। যাতে করে আল্লাহ আমাদেরকে করোনা নামক মহামারী থেকে মুক্তি দেয় এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়।
মারুফ হাসান।
আল কুরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।
কেএ/বার্তাবাজার