করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকার সাভার ও ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ইতোমধ্যে লক ডাউন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন এই লক ডাউন ও নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ না করায় সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এসময় খোলা রাখা দোকান মালিকদেরকে জরিমানা করে তা আদায় করেন।

এদিকে, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সাভার ৩নং ওয়ার্ডের লুতফর রহমান এর বাড়ি ১৪ দিনের জন্য লক ডাউন করা হয়েছে। জানা যায়,তিনি এবং আরও ৪ জন সম্প্রতি তাবলীগ জামাত থেকে ফিরেছেন। তাই সাভার উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার সানজিদা শারমিন মুক্তা বাড়ির ওই বাড়ির গেটে লাল নিশান লাগিয়ে দেন।
তবে উপজেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং নিরলস প্রচেষ্টার ভিতরেও সাভার এবং আশুলিয়ায় নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে সেব্যাপারে অনেকে সন্দিহান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে এখানে এত কড়াকড়ির পরও করোনার জন্ম হচ্ছে নাতো? পাড়া মহল্লায় মুদি দোকান, চা এর দোকান সহ সকল দোকান বন্ধ অথচ নায্য মুল্যের নামে টিসিবির লোক জমায়েত করে বিক্রির নিয়ম চালু করে করোনার জন্ম দিচ্ছে।

এদেশের মানুষ আইন মানছে না, আবার টিসিবি প্রকাশ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চাল বিক্রী করে আইন না মানার উৎসাহ দিচ্ছে৷ আজ (বুধবার) সরেজমিন সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও আশুলিয়ার ডিইপিজেড পুরাতন গেটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টিসিবি’র চাল বিক্রয়কালে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লাইনে গায়ে গা ঘেষে দাঁড়ানো মানুষের চাল ক্রয়ের এই চিত্র সকলকে আতংকিত করবে বৈকি।
সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাকুর্তা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ভাড়ালিয়া মোড় থেকে মোহাম্মাদপুর যাওয়া মুখী সকল রাস্তা লক ডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও আশুলিয়ার কবিরপুরের দেওয়ানপাড়া এলাকা, আশুলিয়ার নলাম এলাকা, শিমুলিয়া ইউনিয়নের দিঘিরপাড় ও গোহাইলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকা, পাথালিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চিরটেক এলাকা, গকুলনগর ও পানধোয়া এলাকার প্রবেশপথ লক ডাউন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, দিঘিরপাড় এলাকার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, মেশিনপাড় এলাকার আরিফুজ্জামান রুবেল, রিপন হোসেন, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ এলাকা লক ডাউনের উদ্যোগ নেন।
এব্যাপারে গণমাধ্যমকে উদ্যোগকারীরা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীকে নিরাপদ রাখতে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এলাকার কোন লোকজন বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কেউ এলাকায় ঢুকতে পারবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ লক ডাউন থাকবে বলেও জানান তারা।
এদিকে, ধামরাই উপজেলার প্রতিটি গ্রামের যুবকরা তাদের নিজ নিজ এলাকার রাস্তায় গাছ ফেলে করোনা ভাইরাস যাতে বিস্তার করতে না পারে সে জন্য এলাকা লক ডাউন করে চলেছেন। মূলত করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে সবাইকে সুরক্ষিত করার জন্য জনসচেতনামূলক কাজে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমেদ এমপি পুরা ধামরাই উপজেলা লক ডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ এপ্রিল) ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের খড়ার চর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও রোয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হাসানাত কামাল এর উপস্থিতিতে খড়ার চর বাজার লক ডাউন করে হয়েছে।

তবে এভাবে এলাকাগুলির প্রবেশপথে গাছ ফেলে কিংবা অন্য বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে ‘লক ডাউন’ করাটা জরুরী প্রয়োজনের সময় ফায়ার সার্ভিস সহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের যানবাহন প্রবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন।
কেএ/বার্তাবাজার