রাতের আঁধারে ঘরের দরজায় খাবার পৌঁছে দেওয়াই যার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে

দেশে যখন করোনার মতো মহামারী প্রকট আকারে বিস্তার করা শুরু করেছে। তখনি এই মহামারী থেকে বাঁচাতে ঘরে থাকার জন্য, কখনো মাইকিং করে আবার কখনো প্রশাসন কঠোর হয়ে সবাইকে করোনা থেকে বাঁচাতে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা লোক লজ্জায় মুখ ফুটে কারো কাছে অভাবের কথা বলতে পারেনা। সেই সব মানুষদের দরজায় গিয়ে খাবার পৌছে দিতে দেখা যায় এক মধ্যবয়স্ক যুবকে। তিনি রাতের আঁধারে রাজধানীর গাবতলী,বেড়ীবাঁধ, বসিলা, মোহাম্মদপুর, কেরানীগন্জ এবং ঢাকার বাহিরের কিছু অংশে ঘুরে ঘুরে ঘরের দরজায় খাবার পৌছে দেওয়াই গত এক সপ্তাহ ধরে যার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যে কোন লোক ঘরের দরজা খুললেই চমকে উঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাদের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আর,বি,এল বিল্ডার্স এবং ইটনা গ্রুপ নামের দুইটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিহাব বিন সাঈদ এই ত্রান বিতরণ করে যাচ্ছেন। আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার জামাতা।

সরাসরি তার খোঁজ না পাওয়া গেলেও মুঠো ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই সবার জায়গা থেকে এগিয়ে এসে সবাইকে সবাই সাহায্য করাই মানবিকতা। মূলত আমি আমার মানবিকতার জায়গা থেকে চিন্তা করে দেখলাম সমাজের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা লোকলজ্জার কথা চিন্তা করে না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে হাত পাতে না। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কিছু পরিবার খুজে পেয়েছি যারা নিজের অনাহারের কষ্ট কারো কাছে খুলে বলতেও লজ্জাবোধ হয়। তাই আমার মানবিকতা থেকে এইসব মানুষদের জন্য ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। যদি আমাদের দেশের প্রতিটি পাড়া,মহল্লার তরুনরা এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের যে মনুষত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তা হয়তো ফিরে আসবে। ইনশাআল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে। তাই আমি চাই আমি কেন? সবাই যেন এমন উদ্যোগ নিয়ে সবাই সবার জায়গা থেকে এগিয়ে আসে।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর