মরনভাইরাস করোনারাএ এখন পর্যন্ত কোনো টিকা আবিস্কার না হলেও কিছু ওষুধের গুনগত মান নিয়ে কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। আগে থেকেই প্রচলিত কিছু ওষুধের কার্যকরীতা করোনা ভাইরাসের সাথে কিছুটা মিল থাকায় স্পম্রতি কিছু দেশে আক্রান্তদের উপর সেগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। করোনাক্রান্দের সুস্থ করে তুলতে সেগুলো ভালো কাজও করছে।
বিজ্ঞানীরা যেসব ওষুধের কথা বলেছেন তার মাঝে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নামের একটি ওষুধ। সারা বিশ্বেই এটিকে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ওষুধটি করোনাক্রান্তদের ব্যবহার করতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে। নিজে নিজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানীগুলোর মাঝে ডেল্টা ও ইনসেপ্টা নামের দুটি প্রতিষ্ঠান এই হাইড্রোস্কিক্লোরোকুইন উৎপাদন করে থাকে। রিকোনিল নাম দিয়ে ইনসেপ্টা ও রিউমাফ্লেক্স নাম দিয়ে ডেল্টা কোম্পানী এটাকে বাজারে ছেড়েছে। তারা এই ওষুধটিকে বিদেশেও রফতানী করে বলে জানা গেছে।
আইভারমেক্টিন নামক একটা ওষুধ নিয়েও আশার আলো দেখছেন গবেষকরা। সম্প্রতি অস্ট্র্রেলিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক তাদের ল্যাবরেটরির গবেষণায় দেখেছেন, আইভারমেকটিনের একটি মাত্র ডোজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাসের আরএনএকে বাধা প্রদান করে। ফলে মানবদেহে ভাইরাসের বৃদ্ধি ঘটে না। তবে এই ওশুধটি নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছে।
আইভারমেকটিন ইউএসএফডিএ অনুমোদিত একটি অ্যান্টি প্যারাসাইটিক ওষুধ। এটা সাধারণত ফাইলেরিয়া ও স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও ডেল্টা নামের দুটো কোম্পানী এটা উতপাদনের লাইসেন্স পেলেও উৎপাদন করে আসছে শুধু ডেল্টা কোম্পানী। বাজারে ‘স্ক্যাবো-৬’ নামে তারা এটা চালাছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধটিও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে।
এসব ওষুধ ছাড়াও এজিথ্রোমাইসিন নামক একটি অ্যান্টিবায়োটিক করোনা চিকিৎসায় বেশ কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন এই অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়ার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।
বার্তাবাজার/এসজে