জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মনণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
৩৭ বছর বয়সী ওই প্রবাসীর করোনা উপসর্গে মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও শ্যালিকা বাদে শশুর-শাসূড়ী এমনকি পরিবারের সবাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।উপজেলার প্রশাসনের লাশ দাফনকাজ করার জন্য যে কমিটি রয়েছে তারাও ঘটনাস্থলে যাচ্ছে না বলে লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
মৃত প্রবাসী ব্যাক্তি নাসিরনগর উপজেলারই অন্য একটি গ্রামে শশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। গত ১৮ মার্চ দেশে ফেরার পর ১ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।
উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে জানা যায়, ৪ এপ্রিল শরীরে জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মালয়েশিয়াপ্রবাসী। সে সময় আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তার রক্ত পরীক্ষা করে টাইফয়েডের জীবাণূ পান। তখন তাকে হাসপাত্রালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সেটা উপেক্ষা করে শশুরবাড়ি চলে যান। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে তিনি অতিমাত্রায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ভুগছেন বলে পরিবারের লোকজন চিকিৎসক সাইফুলকে জানান। তখন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দ্রুত তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য বললেও তাঁরা তা শোনেননি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে তাঁকে অটোরিকশায় করে স্ত্রী, বাবা ও শ্বশুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, লক্ষণগুলো দেখে ওই প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ হচ্ছে। পরিবারের লোকজন অনেক কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন। তবে নমুনা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় বলেন, সর্বশেষ প্রবাসীর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি পাওয়া গেছে। তাঁর পরিবারের সব সদস্যকে আইসোলেশনে রাখা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ সদস্যরাও আসতে চাইছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশরাফী জানান, ওই প্রবাসী ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ করে শ্বশুরবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁর লাশ দাফন করা হবে।
বার্তাবাজার/এসজে