বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন ইতালি প্রবাসী শরীয়তপুরের ফাহিম দেওয়ান

সরকার যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউন, হোম লক ও কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যতামূলক করেছে। তখন অনেক চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়ারা তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে ফেলেছে।

দেশের এই মহামারী দুর্যোগে শরীয়তপুরের ছেলে ইতালিতে বসবাসরত ফাহিম দেওয়ান নামের এক বাংলাদেশী তার বাংলাদেশে থাকা ঢাকার ৬ তলা বাড়ির ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন।

এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম অভাবনীয়ভাবে বাড়ছে। অনেক ভাড়াটিয়া তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যখন দেশের এই অবস্থা তখনই কিছু বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

গত কয়েকদিন আগে শিউলি নামের এক বাড়িওয়ালা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই রেশ ধরে ইটালিতে বসবাসরত শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়নের নন্দনসার গ্রামের ফাহিম দেওয়ান নামের এক বাংলাদেশী এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ও তার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়া মওকুফ করে দেন।

ফাহিম দেওয়ান বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এইটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে সারাবিশ্ব।

সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগান্ডার সরকার। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন, ভাড়াটিয়ারা খেয়ে থাকুক আর না খেয়ে থাকুক ঠিকই গুনতে হবে ভাড়ার টাকা।

এমন কঠিন সময়ে ভাড়ার টাকাটাই আরও বেশি চিন্তায় ফেলবে ভাড়াটিয়াদের। তাই আমি আমার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিলাম। অন্ততপক্ষে তাদের যেনো ভাড়াটা নিয়ে চিন্তা করতে না হয়।

আলহামদুলিল্লাহ। ভাবতেই ভালো লাগছে এই কঠিন সময়ে বেশকিছু পরিবাবের পাশে একটু হলেও থাকতে পেরেছি। একজন বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়াদের উপর কিছু দায়িত্ব থাকে। আর এখনই সময় সেই দায়িত্ব পালন করার।

সারা বছর আপনি ভাড়াটিয়াদের টাকা দিয়ে আপনার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখেন। এখন এমন বিপদে তাদের পাশে থাকা কি আপনার দায়িত্ব না। আসুন আমরা যে যার জায়গা থেকে আশে পাশে থাকা মানুষ গুলোর পাশে থাকি। এখন যদি আমরা একে অপরের পাশে না থাকি তাহলে আর কবে থাকবো বলেন।

করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দিবে? এসব ভেবেই আমি তাদের জন্য এপ্রিল মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি।

পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সামনের মাসগুলোও বিবেচনা করবো। আমি কার জন্য কি করলাম কাকে কি দিলাম এটা মুখ্য নয়, মানুষজনদের বিপদের পাশে যদি নাই দাড়াঁতে পারি তাহলে আমি কি বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ। এভাবে ফাহিমদের মতো বাকি বাড়িওয়ালারা যদি এমন উদ্যোগ গ্রহন করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ অন্তত এই দুর্যোগে একটু হলেও স্বস্তি পাবে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর