প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও জনচলাচলের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ।
বিশেষ করে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
ঠিক সেই মুহুর্তে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নুর ইসলাম নামে এক অটোরিকশা চালকের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর চরনারানদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি জানায়, বিকাল ৪টার দিকে রান্না ঘরে হঠাৎ করে আগুনের শিখা দেখতে পায়।

মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বসতঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
জানা যায়, নুর ইসলাম অটোরিকশা চালিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা,স্ত্রী ও ২ সন্তানের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ কর্মহীন হয়ে পড়ে নুর ইসলাম।
ফলে অর্থকষ্টে নুর ইসলামের পরিবারের সদস্যদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এমন সময়ে অগ্নিকাণ্ডে নুর ইসলামের বসতঘরের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই সাথে অগ্নিকাণ্ডে জীবিকা অর্জনের একমাত্র সম্বল অটো গাড়িটিও আগুনে পুড়ে অকেজো হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নুর ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘অটোরিকশা চালিয়ে আমি সংসার চালায়। করোনা ভাইরাসের কারণে সেই রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। খুব কষ্টে সংসার পরিচালনা করছি। এমন সময়ে আগুন আমার সব কিছু কেড়ে নিল। আগুনে আমার অটো গাড়িটিও পুড়ে গেছে।’
পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, ‘আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগত ভাবে পরিবারটিকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করবো এবং সরকারি ভাবে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো।’
কেএ/বার্তাবাজার