নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রয়োজনে থাকতে হবে। সকলের সমন্বয় ছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সরকারের দেয়া ত্রাণ কার্যক্রম যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ পরিস্থিতিতে যেন কেউ গুজব বা অপপ্রচার না ছড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
আজ (৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কাঞ্চন) দিনাজপুর জেলার করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি এবং সার্বিক ত্রাণ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি এ্যাড. জাকিয়া তাবসসুম জুই, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. আহাদ আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি আরও বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি যে সব চায়ের দোকানে বেশী জনসমাগম ঘটছে সেই চায়ের দোকান গুলোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বস্তিগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রাখার জন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়াও স্বল্প আয়ের দরিদ্র মানুষ যাতে করে অনাহারে না থাকে সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কেউ যাতে গুজব না ছড়ায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। যুব ও তরুণদের তালিকা করে তাদেরকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখতে পরামর্শ দিতে হবে। মানুষ অতি উৎসাহিত। পুলিশ বা ম্যাজিষ্ট্রেটের গাড়ী দেখলেই এগিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে শক্ত হতে হবে। যারা মানবিকতার বিরুদ্ধে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রতিরোধে নিজের সাধ্যমত সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের পরিবার ও জীবনকে বাজি রেখে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতাই একমাত্র শক্তি।
সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারে সকলকে সোচ্চার থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, এই জেলার বেশিরভাগ অংশ সীমান্ত এলাকা। মহামারী আকার ধারণ করা করোনা প্রতিরোধে সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কিছু বাংলাদেশী বিদেশে থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে নিজ নিজ এলাকায় অবাধে চলাফেরা করছে। এতে করে নিজের এবং আশপাশের পরিবারকে বিপদে ফেলছে। এব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
বার্তা বাজার/এম.সি