চেয়েও পাননি ত্রাণ, বাচ্চার দুধ রিকশাওয়ালার দান

করোনা আতঙ্কে গোটাদেশ। থমকে আছে স্বাভাবিক জীবন। গরীব খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাড়াচ্ছেন বিত্তশালীরতা। সরকারী ত্রাণও বিতরণ হচ্ছে। এতসব সহযোগীতার মাঝেও বিপদে আছেন স্থানীয় নয়, এমন মানুষজন। জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে দেখে ত্রাণ দেয়ার ফলে বাদ পরে যাচ্ছেন অন্য জেলার লোক হয়েও একই এলাকায় অবস্থান করা অসহায় মানুষেরা।

এমনই এক অসহায় নারীর নাম সুকিয়া। গাজীপুর সিটির ৫১ নাম্বার ওয়ার্ডে বসবাস করে, অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চালান ৩ সন্তানের এই সংগ্রামী জননী। করোনার লকডাউনে বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের বাড়িতে কাজ করা। ঘরে চাল বাড়ন্ত। পেটের ক্ষুধা মিটাতে এখন ভরসা লোকের দেয়া ত্রাণের। কিন্তু সেখানেও যে তার কপাল পোড়া। অন্য জেলার ভোটার হওয়ায় মিলছে না ত্রাণ। নাগরিক সিস্টেমের বেড়াজালে পড়ে অসহায় সুকিয়ার নির্মম এই কাহিনি উঠে এসেছে টংগীর উদীচীকর্মী মাধব আচার্যের ধারণ করা এক ভিডিওতে।

সুকিয়া জানান, ‘আজকে কিছুই দেয় নাই। তারা বলতেছে, এইখানে যারা স্থানীয় ভোটার তারা পাইব। আমি তো স্থানীয় না, আমি সিলেটের ভোটার। আমি গিয়া কমিশনাররে কইলাম, সেও এই কথা কইল। সরকারে বলে কইছে, এই জায়গার ভোটার যারা তারা পাইব লিস্ট কইরে কইরে। আর এই জায়গার যারা ভোটার না, তারা পাইব না

তিন সন্তান নিয়ে অকুলে ভেসে বেড়ানো এই জননীর ছোট সন্তানুটির বয়স মাত্র ৪ মাস। তার দুধ কেনার টাকা কোথায় পাবে? জবাবে সুফিয়া বললেন, ‘বাচ্চা বুকের দুধও খায় তোলা দুধও খায়। বুকের দুধ তো পায় না…। তোলা দুধের উপরেই চলতেছে। তোলা দুধ কই পামু? ঘরে তো খাবার নাই, তোলা দুধ ক্যামনে কিনমু? একটা রিকশা ড্রাইভারে এই দুধটা দিল। আর একজনে হাফ কেজি চিনি দিল বাচ্চার লাইগা। কি করমু তাইলে আমি…’

টঙ্গী এলাকায় শুক্কুর আলী নামের এক লোকের বাসায় আশ্রিতা হয়ে আছেন সুকিয়া। গাড়ি বন্ধ তাই গ্রামেও যেতে পারছেন না। রোববার (৫ এপ্রিল) তার তিন সন্তান ও তার জন্য কোনো এক সুহৃদ কিছু খাবার দান করেছেন। সেগুলো দেখিয়ে সুকিয়া বললো, ‘আমাগো খাওয়ার জন্য এই কয়টা ডাটা, কয়টা মাছ আর হাফ কেজি চাইল দিল। আর কয়ডা আলু দিছে। মাছগুলা ভালোই দিছে….।’

আজ না হয় কেউ একজন তাদেরকে খাবার দিয়ে দিল। পেটের ক্ষুধা মিটে গেল। কাল কি হবে? কিভাবে বাঁচবে সুকিয়া নামের জীবন সংগ্রামে ভেসে আসা এক মা ও তার ৩ সন্তান?

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর