গণপরিবহন বন্ধ। এর ভিতরেই পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যে যেভাবে পারে ঢাকায় ফিরেছিলো পোশাক শ্রমিকেরা। কিন্তু রবিবার (৫ এপ্রিল) কারখানা খুলে দেয়ার ৪ ঘন্টার ভিতরেই অধিকাংশ কারখানা আবার বন্ধের নোটিশ দিয়ে দেয়ায় বিপাকে পড়ে শ্রমিকরা। ফলে বাধ্য হয়ে আবারও ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে ফিরছেন তারা।
রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সড়কগুলোতে কারখানা অভিমুখী শ্রমিকদের ঢল নেমেছিলো। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটেই নিজ নিজ কর্মস্থলে পৌঁছান। কিন্তু পরে আগামী ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সব কারখানাই পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করা হলে আবারও বিপাকে পড়েন শ্রমিকেরা।

বন্ধের ব্যাপারে, ঢাকা ইপিজেডের জেনারেল ম্যানেজার (মহা ব্যবস্থাপক) আবদুস সোবহান এর বরাত দিয়ে জানা যায়, ঢাকা ইপিজেড এর ১০০ টি কারখানার মধ্যে আজ প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে আবার অনেক কারখানা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
তবে কয়েকটি দেশের চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি কারখানা খোলা থাকছে যেখানে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কাজ করা হবে।

তবে কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কারখানা খোলা রাখায় করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে শ্রমিকদের। ফলে সরকার ও বিজিএমইএর কাছে তারা সব কারখানা বন্ধ ঘোষণার দাবী জানান।

গণমাধ্যমকে শ্রমিক নেতারা আরও জানান, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আগেই শ্রমিকদের জানিয়ে দেয়া হলে এমন দুর্ভোগে তাদের পড়তে হতো না।
সরেজমিন সাভার-আশুলিয়ার সড়ক ও মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা বন্ধের ঘোষণা পাওয়ার পরই অনেক শ্রমিক তাদের বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছেন। কিন্তু গনপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক ও পিক-আপে করে ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে রওনা হতে দেখা গেছে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের কারণে বাইরে থেকে ঢাকার ভেতরে মানুষের প্রবেশ এবং ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। সরকারের নির্দেশে সামাজিক দূরত্ব বাস্তবায়ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মুখপাত্র সোহেল রানা।
সেখানে বলা হয়েছে, যখন বাংলাদেশের লকডাউন উপেক্ষা করে শনিবার হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে ঢাকায় প্রবেশ করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার এক পর্যায়ে গার্মেন্টস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বদলে আবার ছুটি বাড়িয়ে দেবার ঘোষণা দেয় মালিকদের সংগঠন।
কিন্তু ততক্ষণে বহু শ্রমিক পায়ে হেঁটে, পণ্যবাহী যানবাহনে চড়ে ঢাকায় ঢুকে পড়েছে। এদিন সকালে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তাতেই দেখা যায় বিভিন্ন কারখানা অভিমুখে শ্রমিকদের ঢল।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এরই মধ্যে যারা ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন, তাদের আমরা আটকে দিয়েছি এবং নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি। এছাড়া নতুন করে জড়ো হয়ে কাউকে ঢাকার দিকে রওনা হতে দিচ্ছি না আমরা।
হাইওয়ে পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পর্যায়ের পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সাথে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সাভার ও ধামরাইয়ে করোনা সন্দেহে এক বৃদ্ধসহ (৯০) দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার ও ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা।
কেএ/বার্তাবাজার