বগুড়ার মহাস্থানগড় বাসস্টান্ডের কাছে ফেলে যাওয়া সেই ব্যক্তির শরীরে করোনার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এটিএম নুরুজ্জামান শনিবার (০৪ এপ্রিল) রাতে জানান, ‘আইসোলেশনে ভর্তি রংপুরের ওই ব্যক্তির দেহে করোনার উপস্থিতি মিলেছে। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে এ বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এ ছাড়া তিনদিন আগে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসোলেশনে মারা যাওয়া ১৩ বছরের শিশুর শরীরে করোনার উপস্থিতি মেলেনি বলেও জানিয়েছে তারা।
তিনি জানান, আজ রোববার পর্যন্ত ওই হাসপাতালের মোট সাতজন রোগী আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগে থেকে আইসোলেশনে ভর্তি চারজনের মধ্যে একজনের দেহে করোনার উপস্থিতি মিলেছে। এর বাইরে তিনদিন আগে আইসোলেশনে মারা যাওয়া গাবতলী উপজেলার ১৩ বছরের শিশুটি করোনায় আক্রান্ত ছিল না বলে আইইডিসিআর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ভোরে ওই ব্যক্তিকে বগুড়ার মহাস্থানগড় বাসস্টান্ডের কাছে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য গত বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে জানানো হয়। আইইডিসিআর থেকে রিভিউ রিপোর্টেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধানসহ পাঁচজন চিকিৎসক, আটজন নার্সসহ মোট ১৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির কাছ থেকে সবাইকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির বলেন, ‘ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় মহাস্থানগড় থেকে যেসব ব্যক্তি তার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’
বার্তাবাজার/এমকে