করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং জনসমাগম এড়াতে পঞ্চগড়ে গত ২৪শে মার্চ থেকে জেলার সব ধরনের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রয়েছে।
জেলার শুধু পঞ্চগড় পৌর এলাকায় প্রায় ৮৫০ জন হোটেল শ্রমিক এখন বেকার। হোটেল খোলা নেই, তাই কাজও নেই, বাসায় বসে দিন কাটছে হোটেল শ্রমিকদের। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ ধরে বাসায় বসে থাকলেও এখনো ত্রাণ মেলেনি হোটেল শ্রমিকদের।
আজ রবিবার (০৫ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের বানিয়াপট্টি সড়কের নিরব-২ হোটেলের সামনে দাড়িয়ে ত্রাণ না পাওয়ায় নিজেদের পেট দেখিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন পঞ্চগড় হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা ।
জেলার পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকার হোটের শ্রমিক রুবেল হোসেন জানায়,আমাদের হোটেল ১৩ দিন ধরে বন্ধ। তখন থেকে আমি বাসায় বেকার হয়ে পড়ে আছি। এ পর্যন্ত কেউ ত্রাণও দেয়নি এবং ত্রাণ পেয়েছি কিনা খোঁজও নেয়নি। আমি এখন কিভাবে চলবো। কে আমাকে ত্রাণ দিবে। আমি যখন জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাই ত্রাণের আশায় তখন তারা বলে পরে আসিস দিব। তোর নাম লিস্টে আছে।
বিক্ষোভ কালে পঞ্চগড় হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান,করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পঞ্চগড় জেলায় অনেক ধরনের শ্রমিক এখন বেকার। কিন্তু তারা কোন না কোন ভাবে কাজ করে খাচ্ছে। আর আমরা হোটেল শ্রমিকরা এখনো বেকার হয়ে পড়ে আছি। সরকারি ভাবে এক ছটাক ত্রাণও কেউ পায়নি।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এমনও শ্রমিক আছে যাদের কাজ না করলে চুলা জ্বলেনা। হাতে কোন টাকা-পয়সা নেই,কি করে খাবো,কি করে চলবো। ১০ টাকা কেজি দরের চাল দিচ্ছে কিন্তু সেই চাল কেনার টাকা তো আমার কাছে নেই বর্তমানে কিভাবে চাল কিনব আমি। ত্রাণের আশায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছি তারা একে অপরকে দেখিয়ে দিচ্ছে। সরকারের কাছে ত্রাণের দাবি জানাচ্ছি। আর সরকারিভাবে যদি ত্রাণ না পাই তাহলে তো আমাদের বাধ্য হয়ে হোটেল খুলে কাজ করতে হবে। এছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস