দেলদুয়ারে সূর্যমুখী ফুল চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা

সূর্যমুখীর একটি ফুল যেন সৌন্দর্যের রানি । তাই এ সূর্যমুখী নিয়ে রচিত হয়েছে বহু গান, কবিতা । তেলজাত শস্য হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়ে তা এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে দেলদুয়ারের মাঠে মাাঠে । দেলদুয়ারের মাঠ যেন এখন সুসজ্জিত ফুলের বাগান ।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বেশ কয়েকজন কৃষকের মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী।

উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের স্বল্পলাড়ুগ্রাম ধলেশ্বরী নদীর তীরে এমনই মনোমুগ্ধ কর দৃশ্য চোখে পড়ে । সূর্যমুখী মাঠের পাশে এসে গেলে যে কেউ কিছু সময় কাটাতে চাইবে সেখানে । তবে সূর্যমুখী পরিপক্ক হতে আর তেমন সময় বাকী নেই । কৃষি অফিসের মাধ্যমে লাভের হিসাব মেলাবে চাষীরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩ শ’ ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে । সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে ১০ জন কৃষককে দিয়ে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষি বিভাগ। সে জন্য প্রশিক্ষণ সহ সার ও বীজ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতাও করা হয় । এছাড়া সূর্যমুখী পরিপক্ক হলে উপজেলা কৃষি বভিাগের পক্ষ থেকেই ক্রয় করা হবে ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার লাউহাটি ,স্বল্পলাড়ুগ্রাম, ভবানিপুর, এলাসিন গ্রামে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। লাউহাটি ইউনিয়নের স্বল্পলাড়ু গ্রামের তেলজাত শস্য সূর্যমুখী চাষী মো. আরিফ মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে তার ৩৩ শতাংশ অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন । এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পরামর্শও দেন কৃষি অফিস। বর্তমানে তার জমিতে অনেক ভালভাবে বেড়ে ওঠেছে সূর্যমুখী । তবে লাভজনক হলে আগামি বছর তিনি আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করবেন। আরিফের পাশেই নুরনবী চাষ করেছে সূর্যমুখী । কিন্তু তেমন ভাল হয়নি ।

নুরনবী জানান, যদি লাভজন হয় আগামিতে যত্ন নিয়ে চাষ করবেন তিনি । স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় তামাক চাষ বেশি হয় । তবে সূর্যমুখী চাষে লাভজনক হলে তামাক চাষ ছেড়ে তারা সকলেই সূর্যমুখী চাষ করবে বলে জানান । উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় তামাকের পরিবর্তে সূর্যমুখীর চাষে খুশি হয়েছেন অনেকে । প্রকৃতি প্রেমী যুবক বয়সীরা বিকেল হলেই সূর্যমুখীর পাশে এসে বিভিন্ন রকম ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়। কেউ আবার দুই একটা ফুল ছিঁড়ে নিয়েও যায় । সূর্যমুখী মাঠের পাশে সময় কাটাতে অনেকেরই ভাল লাগে । সূর্যমুখী কৃষকের সযত্নে চাষ করা তৈলজাত শস্য । লাউহাটি ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমাস বলেন, তিনি সূর্যমুখী চাষ বিষয়ে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দেন।

দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি তেলজাত শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এ বছর উপজেলার ১০ জন কৃষককে সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে । এতে সার ও বীজ কৃষকদের বীনা মূল্যে বিতরণ করা হয় । তবে আগামি বছরে আরও ব্যপক আকারে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানো হবে ।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর