এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা! করোনায় এমনিতেই যা-তা অবস্থা স্পেনের। করোনায় মৃত্যুমিছিলে ইতালির পিছু নিয়েছে স্পেন। ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত মারা গিয়েছেন। আক্রান্ত ১ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি। এই বিপর্যয়ের মধ্যেই সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়াল পূর্বে স্পেনে বন্যাপরিস্থিতি।
সেখানকার সরকারি একটি সূত্র জানাচ্ছে, চার মাসের জমা-বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়। এমত অবস্থায় যা হওয়ার, তাই হয়েছে। যত আধুনিক শহরই হোক, এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। ফলে, বানভাসি পূর্ব স্পেনের একাধিক শহর। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার উপকূলীয় অংশে মুষলবর্ষণে (৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল) বানভাসি একাধিক এলাকা।
মৌসমভবনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোটা অঞ্চলে ১৪৭ মিলিমিটার (৫.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্য বছরের এইসময় গড়ে স্বাভাবিক যা বৃষ্টিপাত (৩৪ থেকে ৩৯ মিমি), তার তুলনায় এ বছর চার গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্যাসেলনেরও অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। একদিনে ১৫০ মিমি (৫.৯ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে হিসেব করলে, ২৪ ঘণ্টায় এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। যার জেরে আলমাসোরা বুরিয়ানা এবং ভিলাফ্র্যাঙ্কা শহর ভাসছে।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের ডেজার্ট ডি লেস পামেস পর্বতমালা থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জলের প্রবাহে। প্লাবিত রাস্তাঘাট। বাড়িঘর জল থইথই। বানভাসি এলাকা থেকে অনেককেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দমকলের কর্মীরা ৯১ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছেন। বন্যার জলে তাঁদের কেউ বাড়ির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন, কেউ আবার গাড়িতে। বন্যার্তদের উদ্ধার করে, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি