বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন কেন্দ্রথেকে একজনকে পৃথক রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শফিক আমিন কাজল।
ওই হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি ৫ জনের মধ্যে ১ শিশু মারাযায়। ওই শিশুসহ ৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এখনও ৪ জন ভর্তি রয়েছে।
বগুড়া করোনা আইসোলেশন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত এক কিশোর ও চিকিৎসাধীন অপর দুই ব্যক্তির সহ ৭ টি বাড়ী লক ডাউন করেছে প্রশাসন। তবে লক ডাউন করা বাড়ীর বাসিন্দাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ধুনট: জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি গার্মেন্টে চাকুরী করেন। তিনি গত ২৪ মার্চ জ¦র, সর্দি , কাশি রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুনট উপজেলার শিয়ালী গ্রামের বাড়ীতে আসেন। এরপর তিনি আরো অসুস্থ্য হলে তাকে ২৯ মার্চ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু করোনা সন্দেহ হলে ডাক্তার তাকে করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তির জন্য রেফার্ড করেন। তার করোনা উপসর্গ থাকায় বুধবার তার নমুনা সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার রাজশাহী ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু টেষ্ট রিপোর্ট আসার আগেই বৃহস্পতিবার তার বাড়ীসহ রাত ১০টায় তিনটি বাড়ী লক ডাউন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও রাজিয়া সুলতানা বলেন, অধিক নিরাপত্তার স্বার্থে লক ডাউন করা হয়েছে। এসব পরিবারে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাহালু: কাহালু পৌর শহরের টি অ্যান্ড টি অফিস সংলগ্ন একটি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ বছরের যুবক কুমিল্লায় এসি.আই কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। গত ২৬ এপ্রিল তিনি প্রচন্ড সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে বাবার বগুড়ার কাহালুর ভাড়া বাসায় আসেন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ওই যুবকের শরীরে করোনা ভ্ইারাসের উপসর্গ থাকা সন্দেহ করে গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি করে দেয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাছুদুর রহমান ওই যুবকের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুদুর রহমান জানান, ওই যুবককের শরীরে করোনা ভ্ইারাসের উপসর্গ থাকার সন্দেহ দেখা দেয়ায় আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি করে তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তা ছাড়া ওই যুবকের শরীরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাবতলী: করোনা আইসোলেশন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন গাবতলী উপজেলা উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের দড়িসোনাকানিয়া গ্রামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর গতবুধবার সন্ধা রাতে মারা গেলে করোনা সনাক্তের জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার রাজশাহী ল্যাবে পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
এরপরই উপজেলা প্রশাসন তারবাড়ীসহ তিনটি বাড়ী লকডাউন করে। গাবতলী ইউএনও মোছাঃ রওনক জাহান জানান, ওই গ্রামের ৩টি বাড়ী লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারী রয়েছে। লকডাউন করা ওই বাড়ী তিনটিতে খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় ভাবে লকডাউন উপজেলা প্রশাসন দিতে পারে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শফিক আমিন কাজল জানান, বগুড়ার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িথেকে ফেলে রাখা রংপুরের শাহ আলমকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন কেন্দ্রে রেফার্ট করা হয়। এই আইসোলেশন কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার মধ্যে এক শিশু মারাযায়। ওই শিশুর নমুনা সহ ৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়। রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় মহা পরিচালকের দপ্তর থেকে শাহ আলমকে আলাদা রাখার কথা বলা হয়েছে।
কেএ/বার্তাবাজার