করোনার জন্য সারাদেশ যখন লকডাউন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন যখন কাজের অভাবে দু’মুঠো খাবার নিয়ে চিন্তিত। তখনই তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এক চেয়ারম্যান। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে প্রায় এক হাজার পরিবারকে সকল ধরনের খাদ্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন।
বিশ্বব্যাপী করোনার আতঙ্কে স্থবির হয়ে গেছে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব। বাংলাদেশের মতো একটি মধ্যম আয়ের দেশ যাঁদের অধিকাংশই শ্রমজীবী, যাঁদের প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। একদিন কাজ না করলে সন্তান পরিজন নিয়ে উপোস থাকতে হয়। সেই ধরনের শ্রমজীবীদের জন্য করোনা নিয়ে আসছে অভিশাপ।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রীতিমত সারা বিশ্বে যুদ্ধ চলছে। সারাবিশ্বের নেয় বাংলাদেশেও করোনা মুক্ত থাকার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। লক ডাউন করা হয়েছে সারা দেশ। মানুষ এখন গৃহবন্দী। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে দিনমজুর, রিকশাচালক, চায়ের দোকানদার সহ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষ, যাঁদের প্রতিদিনের আয়ে় সংসার চলত। এই ধরনের অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন সমাজসেবক, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। দেশের এই ক্রান্তিকালে তেমনি এগিয়ে এসেছেন তন্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।
তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৭ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি পিয়াজ, সুরক্ষা উপকরণ নিয়ে কর্মহীন এ মানুষদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। জাকির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এদেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মত আমার তন্তর ইউনিয়নের মানুষের জন্য সকল ব্যবস্থা করব। সরকারিভাবে যে বরাদ্দ গুলো আসছে সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করছি। তাছাড়া আমি আমার নিজ উদ্যোগে প্রায় এক হাজার পরিবারকে তাদের প্রয়োজন মত খাদ্য সামগ্রী দিয়ে যাব। তাদেরকে আমি ঘরে অবস্থান করতে বলছি, কাজ না করেও তাঁদেরকে খাবারের জন্য কোন চিন্তা করতে হবে না। আমার এই উদ্যোগ যতদিন না করোনা মুক্ত হবে এটা চলতে থাকবে।
আমি অন্যান্য বিত্তবানদের আহবান করছি তাঁরা যেন এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। তাহলেই আমরা সবাই মিলে করোনা কে মোকাবেলা করতে পারব।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস