সরকারি নির্দেশ পালন করতে জোর করে লকডাউন করতে গিয়েছিলেন এক সেনা অফিসার। লোকে শুনবে কেন। নিজেদের ভালোর জন্যই যে ঘরবন্দি হয়ে থাকা প্রয়োজন, কে বোঝাবে তাঁদের। জনতার বেদম মারে আর্মি অফিসারের যে পরিণত হল, তা কিন্তু শিউরে ওঠার মতোই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, WHO-র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘লকডাউন’ই একমাত্র পথ। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই হু এই পরামর্শ দেয়। এই লকডাউনে প্রথম দিকে গাফিলতির মাশুল গুনছে ইউরোপের দুই দেশ ইতালি ও স্পেন।
বিশ্বের ৫০ হাজার করোনা মৃত্যুর মধ্যে এই দুই দেশেই ২৪ হাজার। আমেরিকাও একই পথের পথিক।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ইতালি, স্পেনকে ছাড়িয়ে যাবে মৃত্যুমিছিল। চোখের সামনে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, আমেরিকার পরিণতি দেখে, রোজদিনের কয়েক’শ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই, হু-র পরামর্শ মেনে লকডাউন জারি রেখেছে বিশ্বের অনেক দেশ।
সরকার প্রশাসনের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশের সঙ্গে সেনাও নেমেছে বাংলাদেশ-সহ বেশ কয়েকটি দেশে। লকডাউন কার্যকরের নাম পুলিশের অতি তৎপরতা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
এই ছবিটি আফ্রিকার কোনও এক দেশের। কোনও দেশের তা ছবি দেখে বলা সম্ভব নয়। যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন, জায়গার নাম উল্লেখ করেননি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জোর করে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে, একদল উন্মত্ত জনতার হাতে মার খাচ্ছেন সেনা অফিসার। জনতার চক্রব্যূহে পড়ে– লাঠির বাড়ি থেকে পাথরের আঘাত। মাথায় ভারী পাথরের আঘাতে শেষেমেশ জ্ঞান হারান ওই অফিসার। চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, ওই সেনা অফিসার কোমায় চলে গিয়েছেন।
লকডাউন যে তাঁদের ভালোর জন্যই, তাঁদেরই জীবন বাঁচাতে– মারমুখী লোকজন ভুলে গিয়েছিলেন। হয়তো লকডাউনের জেরে সংকট, অনটন মানুষগুলোকে খেপিয়ে তুলেছিল। কিন্তু, এ ছবি কাম্য নয়। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি পৃথিবীর আরও কোখাও ঘটুক, কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তা চাইবেন না।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি