ভারতে নোভেল করোনা ভাইরাস হুহু করে ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যাটা হাজার ছুঁয়েছিল। চার দিনেই সেই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রক আজ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা-আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৩২৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। সব মিলিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেল।
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ২০৬৯ এবং মৃতের সংখ্যা ৫৩। যদিও সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, অন্তত ২৩৫৮ জন করোনা-আক্রান্ত। প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ জন।
আজ বেলা গড়াতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।
পিটিআই জানিয়েছে, বডোদরায় ৫২ বছর বয়সি এক প্রৌঢ় এবং ইনদওরের ৫৪ বছরের এক বাসিন্দা করোনা সংক্রমণে মারা গিয়েছেন। দিল্লিতে নিজামুদ্দিনের জমায়েত ফেরত দু’জনেরও মৃত্যুর খবর মিলেছে। এক জন করে করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে হরিয়ানা ও রাজস্থানে। মহারাষ্ট্র তিন জন কোভিড-১৯ রোগাক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১। মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছল ৪২৩-এ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নিজামুদ্দিনের জমায়েতে উপস্থিত এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ন’হাজার জনকে চিহ্নিত করে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০৬ জন বিদেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল জানিয়েছেন, তল্লাশি চালিয়ে অন্তত ৪০০ জন সংক্রমিতের খোঁজ মিলেছে, যাঁরা তবলিগি জামাতের সদস্য। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা আগরওয়ালের। একই ভয় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালেরও। তিনি জানান, নিজামুদ্দিন থেকে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জন করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা গিয়েছেন। জমায়েতে থাকা সকলেরই লালারস পরীক্ষা করা হবে। তবে দিল্লিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একে অপরের থেকে সংক্রমণ (লোকাল ট্রান্সমিশন) শুরু হয়নি বলে দাবি কেজরীর।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি